চট্টগ্রামে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলীখেলার মেলা

প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষ্যে বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এই মেলা শুরু হয়। বলীখেলা অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার (২৫ এপ্রিল)।

এবার জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর। দেশের বিভিন্ন এলাকার ১২০ জন বলী নামবেন প্রতিযোগিতায়। চলমান এসএসসি পরীক্ষার কারণে ২৬ এপ্রিল ভোরে মেলা শেষ করতে হবে। মেলা উপলক্ষ্যে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

লালদীঘি মাঠকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার এলাকায় মেলা বসেছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, খুলনা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছেন তাদের পণ্য নিয়ে। উঠে যাওয়া রঙ আবারও নতুন করে লাগাচ্ছেন মাটির সামগ্রীতে। মাটির তৈজসপত্র, ঝাড়ু, হাতপাখা, শীতলপাটি, দা-খুন্তি, প্লাস্টিকের সামগ্রী-ফুল, মণ্ডা-মিঠাই, গৃহসজ্জার সামগ্রী, গাছের চারা, তামা-কাঁসা-পিতলের সামগ্রী, কাঠের আসবাবপত্র, বেতের আসবাব, বাদ্যযন্ত্র, দোলনা, মাছ ধরার জাল, মোড়া, পিঁড়ি, জলচৌকিসহ কি নেই এই মেলায়। নগরের অধিবাসীরা সারাবছর অপেক্ষা করে থাকেন এ মেলার জন্য। কারণ এখানেই মিলে গৃহস্থালির সব জিনিসপত্র।

ঢাকা থেকে মেলায় মাটির তৈজসপত্র নিয়ে এসেছেন ঢাকার ব্যবসায়ী মো. সোবহান। তিনি বলেন, দুইদিন আগেই মেলায় জিনিসপত্র নিয়ে এসেছি। ট্রাক ভাড়া বেশি দিতে হয়েছে। মেলায় মানুষ বাড়লে বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

নারায়ণগঞ্জ থেকে মণ্ডা-মিঠাই নিয়ে জব্বারের বলীখেলার মেলায় এসেছেন ঝন্টু দাস। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের সবাই এই ব্যবসায় জড়িত। প্রতিবছর এখানে চলে আসি। বাপ-দাদারাও এসেছেন। একটা জায়গা পেয়েছি। পসরা সাজালাম।

ঝাড়ু নিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে এসেছেন মো. তারেক। তিনশ’ জোড়া ঝাড়ু এনেছেন তিনি। মেলায় ঝাড়ু বেশি বিক্রি হয়। 

এছাড়া আছে হাতপাখার কদর। চন্দনাইশ থেকে বেত ও তালপাতার পাখা এনেছেন জহির মিয়া। গরমের এই সময়ে হাতপাখা কিনে কেউ ঠকবে না বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি।

আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আবদুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল জানান, বলীখেলা উদ্বোধন করবেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। পুরস্কার বিতরণ করবেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় বদরপাতি এলাকার আবদুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এ অঞ্চলের যুবকদের সংগঠিত করতে লালদীঘি মাঠে কুস্তিখেলার প্রচলন করেছিলেন। সেই কুস্তি কালক্রমে ‘বলীখেলা' নামে পরিচিত হয়ে উঠে।