রংপুরে একসঙ্গে ২৮ তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা
প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

রংপুরে একসঙ্গে ২৮ জন তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় তারা অংশ নেন।
টানা তিন ঘণ্টার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এই পর্যায়ে পৌঁছানো তাদের জন্য গর্বের বিষয়। শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে সমাজে নিজেদের অবস্থান আরো শক্ত করার প্রত্যাশা তাদের।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক ৯টি কেন্দ্রে মোট ১ হাজার ১৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ২৮ জন তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এই কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫৯ জন।
পরীক্ষার্থী মোছাম্মৎ আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, এটি শুধু একটি পরীক্ষা নয়, আমাদের অস্তিত্বের স্বীকৃতি। আমরা দীর্ঘদিন অবহেলার শিকার হয়েছি। এখন সুযোগ পেয়েছি—এটাই আমাদের বড় শক্তি। আমরা পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে ও সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই।
অন্য পরীক্ষার্থীরাও জানান, সরকারের দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এবং ভালো ফলাফলের ব্যাপারে আশাবাদী।
শিক্ষাবিদদের মতে, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে তাদের শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তির পথ প্রসারিত হয়েছে। এবারের অংশগ্রহণ সেই ইতিবাচক পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলভিত্তিক এসএসসি প্রোগ্রামে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছে। তাদের কোর্স ফি’র ৬০ শতাংশ মওকুফ করা হয়েছে, যা শিক্ষার সুযোগ আরো সহজ করেছে।
পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. মাহেদুল আলম বলেন, একসঙ্গে ২৮ জন তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ব্যতিক্রমী ঘটনা। আমরা তাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করেছি, যাতে তারা কোনো ধরনের সংকোচ ছাড়াই পরীক্ষা দিতে পারেন।
রংপুরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক আবু হাফিজ মো. ফজলে নিজামি জানান, তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো বৈষম্যের শিকার না হন, সে জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে কেউ যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ কেবল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজে সমতা, সম্মান ও অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
