হোসেনপুরে ৪০ ডিগ্রির তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে তাপমাত্রা বাড়ছে। ৪০ ডিগ্রি ছুঁই ছুঁই তাপমাত্রায় পুড়ছে মানুষ, সবুজ প্রকৃতি, ফসল, আলু, লিচুসহ শাকসবজির ক্ষেত। রুক্ষ আবহাওয়ায় গাছের পাতাও যেন নড়ছে না। সকালের সূর্য উদয় হচ্ছে আগুনের হুলকা নিয়ে। দশটার মধ্যেই উত্তপ্ত হচ্ছে আবহাওয়া। সময় যত গড়ায়, তাপদাহ ততই বাড়তে থাকে। সবচেয়ে বেকায়দায় পড়েছে টিনের চালার ঘরের বসবাসকারী মানুষ। তাপ যেন টিন চুইয়ে নিচে নামছে। ফলে ঘরে থাকাও দায় হয়ে পড়েছে।

বড় বড় দালাকোঠার ছাদের উপরের পানির ট্যাঙ্কিও ফুটন্ত পানির আধারে পরিণত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস করছে মানুষ, পশুপাখি। একটু স্বস্তি মিলছে না কোথাও। কয়েক দিনের টানা দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।

এদিকে প্রকৃতিও যেন নীরব হয়ে গেছে। দিনের বেলায় দূরে থাক, রাতেও গাছের পাতাও নড়ছে না। বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় মাথার ওপরে ফ্যানটাও দিচ্ছে গরম বাতাস। প্রতিদিনই ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি তাপমাত্রা বিরাজ করছে।

এদিকে তীব্র দাবদাহের কারণে হাসপাতালে বেড়েছে ডায়রিয়াসহ নানা রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে যেন পা ফেলার জায়গা নেই। বেডে, ফ্লোরে—সবখানেই গরমজনিত কারণে রোগী আর রোগী।

কয়েক দিনের স্বস্তির বৃষ্টির পর হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া তাপমাত্রায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে খেটে খাওয়া ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তাপ রুদ্ররূপ ধারণ করছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি ও অস্থিরতা বাড়ছে। শ্রমজীবী মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড গরমে তাদের কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় আয়ও কমে গেছে।

রিকশাচালক সোহাগ হোসেন বলেন, “এই গরমে রিকশা চালানো খুবই কষ্টকর। দুপুরের পর রাস্তায় মানুষ কমে যায়, তাই তখন আর রিকশা চালাতে পারি না।”

অটোরিকশা চালক বাদল মিয়া জানান, “যাত্রী কমে যাওয়ায় ভাড়াও কম পাচ্ছি। এতে আয় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।”

ভ্যানচালক সাবের হোসেন বলেন, “তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই দুপুর হলেই কাজ বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।”

পুমদী, সাহেবেরচর, জগদল, গোবিন্দপুর ও হাজিপুর এলাকায় তাপদাহের প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। প্রখর রোদের কারণে অনেক শ্রমিক মাঠে কাজ করতে পারছেন না, ফলে কৃষিকাজেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দুপুরের পর রাস্তাঘাট প্রায় ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মানুষকে ছায়ার নিচে বিশ্রাম নিতে কিংবা শরবত ও আখের রস পান করে স্বস্তি খুঁজতে দেখা গেছে।

হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তানভীর হাসান জিকু বলেন, এ ধরনের তীব্র গরমে পানিশূন্যতা ও হিটস্ট্রোকসহ নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং রোদ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তাপদাহ অব্যাহত থাকলে জনজীবনে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।