চবিতে ‘এনভায়রনমেন্টাল ইস্যু ও বিপন্ন প্রজাতি আইন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

প্রকাশ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডিটারমিনেন্টস অব লেজিসলেটিভ ডিসিশন মেকিং অন এনভায়রনমেন্টাল ইস্যুজ: দ্য কেস অব দ্য এনডেনজারড স্পিসিস অ্যাক্ট’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ২টায় ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন।

সেমিনারে কি-নোট স্পিকার ছিলেন ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির ন্যাচারাল রিসোর্স ইকোনমিকস এন্ড পলিসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০২৫-২৬ সেশনের ফুলব্রাইট স্কলার ড. সাইয়েদ আর. মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসির পরিচালক মোশাররফ ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এবং সঞ্চালনা করেন চবি আইকিউএসির অতিরিক্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোসলেম উদ্দিন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মানোন্নয়নে এ ধরনের আন্তর্জাতিক সেমিনারের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, পরিবেশগত আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই অভিজ্ঞতা বিনিময় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। এই সেমিনার আমাদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক পরিবেশ আইন সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রদান করবে। তিনি আয়োজকসহ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান। 

সেমিনারে আলোচকের বক্তব্যে চবি বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ কোনো একক দেশের সমস্যা নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের সঠিক সমন্বয়ই পারে আমাদের জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে।

সেমিনারে কি-নোট স্পিকারের বক্তব্যে ড. সাইয়েদ আর. মাহমুদ পরিবেশগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জটিলতাগুলো তুলে ধরে বলেন, ১৯৭৩ সালে আমেরিকায় বন্যপ্রাণী রক্ষার জন্য ‘বিপন্ন প্রজাতি আইন’ বা ইএসএ তৈরি করা হয়। এই আইনের মূল লক্ষ্য ছিল বিলুপ্তপ্রায় পশুপাখিদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া এবং তাদের থাকার জায়গা নিরাপদ করা। মূলত দুটি সরকারি সংস্থা এটি তদারকি করে। তবে সময়ের সাথে সাথে এই আইনটি নিয়ে অনেক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ কোনো প্রজাতিকে যখন ‘বিপন্ন’ ঘোষণা করা হয়, তখন কেবল পরিবেশের কথা ভাবা হয়— মানুষের জীবনযাত্রা বা ব্যবসায়িক ক্ষতির দিকটা ততটা গুরুত্ব পায় না। অর্থনৈতিকভাবে দেখলে, বন্যপ্রাণী রক্ষার সঠিক দাম নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ এদের তো আর বাজারে কেনাবেচা করা যায় না। সমালোচকরা বলেন, বছরের পর বছর এই তালিকায় নতুন নতুন প্রাণীর নাম যোগ হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু বাস্তবে প্রাণীদের বিলুপ্তির হাত থেকে বাঁচিয়ে ফিরিয়ে আনার সফলতার হার খুব কম। সহজ কথায়, এই আইনটি এখন পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক লাভের এক জটিল লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে গেছে, যেখানে রাজনৈতিক চাপ ও জনমতের প্রভাব অনেক বেশি কাজ করে।

তিনি বলেন, বিপন্ন প্রজাতি রক্ষা কেবল নৈতিক দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষার অপরিহার্য অংশ।

সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।