ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসুদেব ইউনিয়ন ভাঙার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সম্মেলন
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৫ | অনলাইন সংস্করণ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ১৫০ বছরের পুরোনো বাসুদেব ইউনিয়নকে ‘দ্বিখণ্ডিত’ না করার দাবি জানানো হয়েছে। আজ সোমবার সকালে বাসুদেব বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঐতিহ্যবাহী বাসুদেব ইউনিয়নকে ভেঙে নতুন আরেকটি ইউনিয়ন গঠন করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। যা স্থানীয় জনগণের অজান্তে এবং মতামত উপেক্ষা করেই করা হচ্ছে। এমনকি এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে তারা আগে থেকে কিছু জানতেন না।
তিনি আরও বলেন, একটি প্রভাবশালী মহল স্থানীয় প্রশাসনকে নানাভাবে চাপে রেখে বাসুদেব ইউনিয়নকে ভেঙে দিতে চাচ্ছে। এটিকে ঘিরে তারা নানা অপপ্রচারেও লিপ্ত রয়েছে। প্রশাসনও পক্ষপাতিত্ব করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মূলত ব্যক্তির রাজনৈতিক অভিলাষ বাস্তবায়নের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাসুদেব ইউনিয়ন কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল, সাবেক ইউপি মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক মেম্বার নুরুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় অভিযোগ করা হয়, জেলা প্রশাসন বরিশল গ্রামে গিয়ে তদন্তকালে ফ্যাসিস্টদের কিছু দোসর ও ভাড়াটিয়া লোকজন উপস্থিত ছিলেন, যা এলাকাবাসীর মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। জেলা প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। বরিশল গ্রামের তদন্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হলেও বাসুদেবে এসে করা তদন্ত নিয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে দাবি করেন বক্তারা। এতে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
নতুন ইউনিয়ন গঠন করে সেটিকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাবেরও তীব্র সমালোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, বর্তমানে বাসুদেব ইউনিয়নের যেকোনো স্থান থেকে অল্প সময়েই জেলা সদরে যাতায়াত সম্ভব। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও অন্য উপজেলার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি অযৌক্তিক বলে তারা মন্তব্য করেন। এলাকাবাসীর প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ইউনিয়ন বিভক্তির বিপক্ষে বলেও দাবি করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া প্রভাব বিস্তার করে প্রশাসনিক কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এতে এলাকাবাসীর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এলাকাবাসী ঐতিহ্যবাহী এই ইউনিয়নের অখণ্ডতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে জীবন দিয়েও দাবি আদায় করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
