রংপুরে আশীর্বাদের বৃষ্টি, সেচ খাতে সাশ্রয় প্রায় ৫০ কোটি টাকা

প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৫ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

রংপুর অঞ্চলে বোরো আবাদে সেচ সংকটে দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে নেমেছে বৃষ্টি। কয়েক দিনের টানা বর্ষণে শুকিয়ে যাওয়া ধানের জমিতে পানি জমেছে। এতে কৃষকদের দুই থেকে তিনবার সেচ দেওয়ার প্রয়োজন কমে গেছে, ফলে সেচ খাতে প্রায় ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতি দোন (২৪ শতক) জমিতে একবার সেচ দিতে প্রায় ১২৫ টাকা খরচ হয়।

সে হিসাবে তিনবার সেচে দোনপ্রতি খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৩৭৫ টাকা, আর হেক্টরপ্রতি প্রায় ৩ হাজার ৭০০ টাকা। চলতি মৌসুমে রংপুরে ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। সেই হিসেবে এবার বৃষ্টির কারণে কৃষকদের বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে।

মিঠাপুকুর উপজেলার ইসলামপুর এলাকার কৃষক আজিজার রহমান জানান, ডিজেলের সংকটের কারণে অনেকেই ঠিকমতো সেচ দিতে পারেননি। তবে শনিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে জমিতে পর্যাপ্ত পানি জমেছে। এতে অন্তত তিনবার সেচের খরচ বেঁচে গেছে। তিনি বলেন, এতে ফলন ভালো হওয়ার আশা থাকলেও অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে নিচু জমিতে জলাবদ্ধতার শঙ্কা রয়েছে।

রংপুর নগরীর নজিরেরহাট এলাকার কৃষক শ্যামল রায় বলেন, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়েছিল। তবে বৃষ্টির কারণে সেচ কম লাগায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে। তার জমি উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমলেও কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান তিনি। বরং এতে পোকামাকড়ের আক্রমণও কমবে বলে আশা করছেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য উপকারী হয়েছে। এতে সেচের প্রয়োজন কমে গিয়ে উৎপাদন ব্যয়ও হ্রাস পেয়েছে। শনিবার ও রবিবার রংপুর জেলার আটটি উপজেলা এবং অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় বৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে ধানের প্রজনন পর্যায় চলছে, এ সময়ে জমিতে পানির প্রয়োজন থাকায় বৃষ্টিপাত বিশেষভাবে সহায়ক হয়েছে। তার মতে, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে কম সেচেই বোরো উৎপাদন সম্ভব হবে।

তবে অতিবৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কৃষি বিভাগ। এ বিষয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এলাকায় গভীর মেঘমালা তৈরি হওয়ায় রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কিছু স্থানে অস্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, রোববার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগে ১৪৫ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, বজ্রসহ ভারী বৃষ্টি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকায় সাধারণ মানুষকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।