মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারচক্রের মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ১৪

৯০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২১ | অনলাইন সংস্করণ

  কক্সবাজার অফিস

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত উপকূলে মিয়ানমারে সিমেন্ট পাচারের সময় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা রোহিঙ্গা আজিম উল্লাহসহ ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। এসময় মাছ ধরার একটি ট্রলারসহ ৯০০ বস্তা সিমেন্ট জব্দ করা হয়।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুনতলীস্থ নাফ নদীর জেটি ঘাটে আয়োজিত এক যৌথ ব্রিফিংয়ে কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরাফাত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আজিম উল্লাহ (৩৯), মো. জাফর (৪৫), সম্পদ দাশ (৩৮), মো. সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. রবিউল আলম, চাঁন মিয়া (৩৯), মো. ইলিয়াস (৪২), মো. রিপন (২৬), মো. আরিফ (২৫), মো. আলাউদ্দিন (২৬), মো. নোয়াব (৪৫), মো. মামুন (২৬), মো. আরমান (১৯) ও মো. মান্নান (২২)।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আজিম উল্লাহ (৩৯) ছাড়া বাকিরা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত মূলহোতা মো. আজিম উল্লাহ (৪০) উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি মিয়ানমারে অবস্থানকারী আনোয়ার নামক ব্যক্তি থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা গ্রহণ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার বিভিন্ন অসাধু বোট মালিকের সহযোগিতায় এ সকল পণ্য মিয়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মির’ নিকট পাচার করে আসছিলেন।

তিনি আরও জানান, পাচারের বিনিময়ে আজিম উল্লাহ মাদক, বিদেশি সিগারেটসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ পণ্য দেশে আনার চেষ্টাও করতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জব্দকৃত সিমেন্ট, বোট ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কোস্ট গার্ড জানায়, সোমবার ভোরে সেন্টমার্টিনের উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় একটি ফিশিং ট্রলারে অভিযান চালিয়ে ৯০০ বস্তা সিমেন্টসহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। পরে আটক বোটের মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন বিকেলে কোস্ট গার্ড ও র‌্যাব-১৫ (সিপিসি-২) এর যৌথ অভিযানে উখিয়ার বালুখালী এলাকা থেকে মূলহোতা আজিম উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির পর পরিচালিত এ যৌথ অভিযানে পাচারচক্রের অন্যতম হোতাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।