হাল্কা বৃষ্টিতে পানি-কাদায় একাকার কক্সবাজার, জনদুর্ভোগ চরমে
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:১১ | অনলাইন সংস্করণ
এএইচ সেলিম উল্লাহ, কক্সবাজার অফিস

দুই সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র গরমের পর মাত্র ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই কক্সবাজার শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলি পানি ও কাদায় একাকার হয়ে পড়েছে। সড়কে কাদা ও পানি জমে জনজীবনে এনেছে ভোগান্তি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল ৩টা থেকে স্বল্প সময়ের বৃষ্টিপাত হয়। আর এই বৃষ্টিতে শহরের প্রায় শতাধিক স্থানে কাদা ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বিভিন্ন এলাকার নালার পানি উপচে রাস্তায় উঠে এসেছে। এছাড়া হোটেল-মোটেল জোনের বাইপাস সড়ক, বাজারঘাটা, টেকপাড়া, গোলদিঘিরপাড়, বিজিবি ক্যাম্প, আলীর জাহালসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ নালা ভরাট হয়ে যাওয়ায় কাদামাটি জমে পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পৌরসভার পক্ষ থেকে নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পাহাড়ি মাটি গড়িয়ে এসে আবারও নালা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে প্রধান সড়কসহ অলিগলিতে কাদা জমছে। অপরদিকে সড়ক ও জনপদ বিভাগের তেমন তদারকি চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, শুধু নালা পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পাহাড় কাটা বন্ধ করা, পানি নিষ্কাশনের প্রধান পথ বাঁকখালী নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একটু ভারী বৃষ্টিতেই শহরের বাজারঘাটা, বড়বাজার, মাছবাজার, এন্ডারসন সড়ক, টেকপাড়া, পেশকারপাড়া, বার্মিজ মার্কেট এলাকা, বৌদ্ধমন্দির সড়ক, গোলদিঘিরপাড়, তারাবনিয়াছড়া, রুমালিয়ারছড়া, বাঁচা মিয়ার ঘোনা, পাহাড়তলী, সমিতিপাড়া, কুতুবদিয়াপাড়া, ফদনারডেইল, নুনিয়াছড়া ও বিজিবি ক্যাম্প এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিশেষ করে কলাতলী পর্যটন এলাকায় বর্ষা মৌসুমে এ ভোগান্তি তীব্র আকার ধারণ করে।
কক্সবাজার পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের জলাবদ্ধতার পেছনে চারটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—নালা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ, পাহাড় কাটা, বাসাবাড়ির বর্জ্য নালায় ফেলা এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন।
বিকেলে কক্সবাজার শহরের বিজিবি এলাকায় পানি নিষ্কাশনে তদারকি কাজে নিয়োজিত কক্সবাজার পৌরসভার কনজারভেন্সি পরিদর্শক কবির হোছাইন বলেন, কক্সবাজারের ১২টি ওয়ার্ডে পানি নিষ্কাশনের জন্য গত মার্চ মাস থেকে নালা পরিষ্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তার আলোকে ১২টি ওয়ার্ডে নালা পরিষ্কার করা হয়েছে।
কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল বলেন, গত এক দশকে পৌরসভার উন্নয়নে কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হলেও জলাবদ্ধতার মতো মৌলিক সমস্যা রয়ে গেছে। উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি, পাশাপাশি পাহাড় কাটার মাটি ড্রেনে জমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ।
নাগরিক সংগঠন ‘সমৃদ্ধ কক্সবাজার’-এর ভাইস চেয়ারম্যান আদনান সাউদ বলেন, পরিকল্পনা ছাড়াই বিমানবন্দর উন্নয়নের সময় শহরের বড় নালাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পুরোনো ঝিনুক মার্কেটের সামনে থাকা ওই নালাটি দিয়ে শহরের বেশিরভাগ পানি সাগরে যেত। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন পর্যটন এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে।
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, পাহাড় কাটার মাটি এসে ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে যায়। পাশাপাশি সড়ক সংস্কারের সময় পুরনো কালভার্টগুলো উঁচু না করেই রাস্তা নির্মাণ করায় পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হোটেল শৈবালের সামনে বড় নালার ওপর গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তা করায় পানি নামতে পারছে না। ফলে পর্যটন জোনে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
জানতে চাইলে কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোস্তফা মুন্সী বলেন, প্রধান সড়কের কাদায় ভরে যাওয়া স্পটগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। বৃষ্টি কমলে পাহাড়ি মাটিগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।
