নারায়ণগঞ্জে ৫ সিটের জিপ গাড়ি বানালেন তরুণ শিক্ষার্থী!

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

  মোশতাক আহমেদ শাওন, নারায়ণগঞ্জ

কলেজ পড়ুয়া স্বপ্নবাজ এক তরুণ সোহেল মিয়া। ছোটবেলা থেকেই গাড়ির প্রতি ছিল তার গভীর আগ্রহ। নিজে কিছু তৈরি করার স্বপ্ন তাকে তাড়া করে বেড়াতো। সেই আগ্রহ থেকেই স্বপ্ন আর কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে নিজ হাতে তৈরি করেছেন ব্যাটারিচালিত ছোট আকারের একটি জিপ গাড়ি।

ছোট আকারের এই গাড়িতে রয়েছে উন্নত ব্রেক সিস্টেমসহ পাঁচজন যাত্রী বহনের সক্ষমতা। সীমিত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও প্রবল ইচ্ছাশক্তির তাড়নায় নিজের মেধা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান ব্যবহার করে এ গাড়ি তৈরি করে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। গাড়িটি দেখতে বিভিন্ন এলাকার লোকজন ভিড় করছেন তার বাড়িতে।

সোহেল মিয়া রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কালাদি এলাকা ফিরোজ মিয়ার ছেলে। তিনি উপজেলার সরকারি মুড়াপাড়া কলেজে অনার্সের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। পাশাপাশি অবসর সময়ে বাড়ির কাছে একটি বালুর গদিতে কাজ করছেন তিনি।

নিজের উপার্জিত অর্থ থেকে পড়ালেখার খরচ চালিয়েও উচ্ছিষ্ট অর্থ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কিনে ঘরে জমা করেন। এক পর্যায়ে স্বপ্নের জিপ গাড়ি বানানোর কাজে হাত দেন। দীর্ঘদিনের চেষ্টা আর পরিশ্রমে তিনি তৈরি করেছেন ব্যতিক্রম ধর্মী জিপ গাড়ি। ব্যাটারি চালিত ছোট আকারের এই গাড়িতে রয়েছে উন্নত ব্রেক সিস্টেম সহ আধুনিক প্রযুক্তি। ব্যাটারি চারটি ফুল চার্জ হতে সময় লাগে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা।

ফুল চার্জে এটি টানা ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে সক্ষম। জিপ গাড়িটির দৈর্ঘ্য ৭ ফুট ও প্রস্থ সাড়ে ৩ ফুট। গাড়িটি চালক ছাড়াও পাঁচজন যাত্রী বহন করতে পারে। এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ টাকা। তবে এখনো ছাদ লাগানো বাকি রয়েছে। সময় লেগেছে তিন মাসের তো।

সোহেল মিয়া বলেন, পরিবেশ ও জ্বালানি খরচের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চার চাকার এ জিপ গাড়িটি তৈরি করি। এতে একদিকে জ্বালানির যেমন সাশ্রয় হবে, পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি হবে না। পারিবারিকভাবে এখন গাড়িটি ব্যবহার করছেন তিনি। সরকারি সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে এমন গাড়ি তৈরির চিন্তা রয়েছে বলে জানান সোহেল।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছোটবেলা থেকেই সোহেল খুবই মেধাবী ছিল। লেখাপড়ায়ও খুব ভালো সে। শিক্ষার পাশাপাশি কাজও করছে। নিজের খরচ চালিয়েও সে আস্তে আস্তে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কিনে এ জিপ গাড়িটি তৈরি করেছে। পাঁচজন মানুষ নিয়ে গাড়িটির দিব্যি চলাচল করতে পারে।

তাদের মতে, সীমিত সম্পদ নিয়েও সোহেলের এই উদ্যোগ তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ। স্বপ্ন থাকলে এবং চেষ্টা চালিয়ে গেলে সীমাবদ্ধতার মধ্যেও অসাধারণ কিছু করা সম্ভব এটাই আবারও প্রমাণ করল এই কলেজ ছাত্র।

এদিকে সোহেল এর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকলে সীমিত সম্পদ দিয়েও বড় কিছু করা সম্ভব। সোহেল মিয়া আমাদেরকে সেটি করে দেখিয়েছেন। উদ্যমীদের পাশে সবসময় উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। তাকে সকল প্রকার সহযোগিতার আশ্বাসও দেন এই কর্মকর্তা।