বৃষ্টিতে রংপুর নগরীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে বাসিন্দারা
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ২১:০৯ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

টানা বৃষ্টিতে রংপুর মহানগরীর অন্তত ১০টি সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মহানগরীতে ৬৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত এক সপ্তাহে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩০৮ মিলিমিটার।
অতিরিক্ত বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন সড়ক নির্মাণ করলেও ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল, ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের অভাবে পানি দ্রুত নামতে পারে না।
নগরীর প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি—সবখানেই জমে আছে বৃষ্টির পানি। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। অনেক এলাকায় দোকানপাটেও পানি ঢুকে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, বাবুখা, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনি, পার্কের মোড়, সর্দারপাড়া, লালবাগসহ অন্তত ১০টি এলাকায় সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে আছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৬৮ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা স্বল্প সময়ে বেশ বেশি।
মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এই এলাকায় বসবাস করলেও বর্ষা এলেই একই সমস্যার মুখে পড়তে হয়। প্রতি বছর ড্রেন পরিষ্কারের কথা বলা হলেও বাস্তবে তা করা হয় না।
একই এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগমের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর নির্মাণের কারণে ড্রেন সংকুচিত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনায় ভরে থাকায় পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে জলাবদ্ধতা বাড়ছে।
এ বিষয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বরত) রাকিব হাসান বলেন, নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা না থাকায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য বিশেষজ্ঞ দল পরিদর্শন করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে এ সমস্যা অনেকটাই কমবে।
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন এলাকায় লোক পাঠানো হয়েছে এবং অস্থায়ী সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে এবং যত দ্রুত সম্ভব পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।
