কিশোরগঞ্জে আরও ২ হাজার হেক্টর বোরো জমি পানির নিচে
প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ২১:২০ | অনলাইন সংস্করণ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে গত দুইদিন আবহাওয়া কিছুটা ভালো থাকলেও শনিবার সকাল থেকে সারাদিন মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় হাওরাঞ্চলের নদ-নদীর পানির স্তর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃষ্টি ও উজানের ঢলে জেলার হাওরাঞ্চলে নতুন করে আরও ২ হাজার হেক্টর বোরো ধানের জমি তলিয়ে গেছে। এতে মোট তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জেলার ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার হাওরে। শুধুমাত্র ইটনা উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে চলে গেছে।
শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিকলী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ৪৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আগামী কয়েকদিন থেমে থেমে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় কৃষকদের ধান কাটায় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “হাওরের ইটনা পয়েন্টে ধনু-বৌলাই নদীর পানি ৩.০৬, চামড়াঘাটে মেঘনা নদীর পানি ২.৭৩ এবং অষ্টগ্রামের কালনী নদীর পানি ২.৪৫ মিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভৈরব বাজার পয়েন্টে মেঘনা নদীর পানি কিছুটা কমে ১.৮০ মিটারে নেমেছে, যা গতকালের তুলনায় ৭ সেন্টিমিটার কম।”
তিনি আরও বলেন, এখনো সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১০৯ থেকে ৪০০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তবে বৃষ্টি ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে।
ইটনা উপজেলার কৃষক জলিল মিয়া জানান, “আমার অনেক ধান পানির নিচে। দুদিন বৃষ্টি না থাকায় কিছু অংশ কাটতে পেরেছিলাম। কিন্তু শুকাতে পারিনি, অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। আজ বৃষ্টি ও বজ্রপাতের ভয়ে ধান কাটতে পারিনি।”
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, হাওরে বোরো আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত ৫৬ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় ক্ষতির পরিমাণ বেশি। প্রকৃতির ওপর কারও হাত নেই। তবে বৃষ্টি ও উজানের পানি না বাড়লে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কিছুটা কমবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে আগামী তিন মাস বিশেষ সহায়তার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
