ঠাকুরগাঁওয়ে একদিনে ৪ অপমৃত্যু
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬, ২১:১০ | অনলাইন সংস্করণ
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক চারটি অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার দিবাগত রাত থেকে রোববার (৩ মে) সকাল ১১টার মধ্যে জেলার সদর, বালিয়াডাঙ্গী, রাণীশংকৈল ও ভূল্লী থানা এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক কলহ, যৌতুক নিয়ে বিবাদ এবং অসুস্থতার যন্ত্রণা সইতে না পেরে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিয়ের পিঁড়িতে বসা হলো না সৌরভের। সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের দক্ষিণ বঠিনা গ্রামে বিয়ের মাত্র একদিন আগে বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন সৌরভ (২২) নামে এক শিক্ষার্থী। রোববার (৩ মে) সকালে তার বিয়ের দিন ধার্য ছিল।
নিহতের পরিবার জানায়, বিয়ের যৌতুক হিসেবে বাবার কাছে মোটরসাইকেল দাবি করেছিলেন সৌরভ। এ নিয়ে মনোমালিন্য হলে শনিবার রাতে তিনি ঘরে থাকা গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। মুমূর্ষু অবস্থায় দিনাজপুর স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হলে শনিবার (২ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে রাণীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়নে মালতি বালা (৫৮) নামে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। স্বজনরা জানান, মালতি দীর্ঘদিন ধরে পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। শনিবার বিকেলে স্বামীর সাথে তুচ্ছ বিষয়ে ঝগড়া করে অভিমানে তিনি গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
অপরদিকে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী থানার কিসামত শুখানপুকুরী গ্রামে তানজিন আক্তার লিপি (১৮) নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৭ এপ্রিল স্বামীর বাড়ি থেকে বাবার বাড়িতে আসা লিপি শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় নিজ ঘরের তীরের সাথে গলায় ফাঁস দেন। তবে তার আত্মহত্যার সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার উত্তর পাড়িয়া গ্রামে মৃগী রোগী তাহের (৪০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে ঘাস কাটতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন। সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের পুকুরে তার লাশ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। স্বজনদের ধারণা, ঘাস কাটার সময় হঠাৎ মৃগী রোগের কারণে তিনি পানিতে পড়ে ডুবে মারা গেছেন।
পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রতিটি ঘটনায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
জেলায় আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। বিশিষ্ট সমাজসেবী অধ্যাপক মনতোষ দে বলেন, “হতাশা, বিষণ্নতা এবং সামাজিক অস্থিরতা থেকেই মানুষ এই চরম পথ বেছে নিচ্ছে।”
