রাঙামাটিতে ছাত্রদলের দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ১৪৪ ধারা জারি
প্রকাশ : ০৪ মে ২০২৬, ২১:১১ | অনলাইন সংস্করণ
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটিতে জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করেছে সেনাবাহিনী। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
শনিবার (২ মে) দিবাগত রাতে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের ২৩ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। ঘোষিত কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ এনে রোববার (৩ মে) জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে ছাত্রদলের একাংশ। সব শেষ সোমবার (৪ মে) দুপুরে নতুন কমিটির আনন্দ মিছিল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি হয় দুই অংশ।
বিকেল ৩টার দিকে জেলা ছাত্রদলের নতুন ঘোষিত কমিটির নেতাকর্মীদের আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে পদ পাওয়া ও পদবঞ্চিত দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেয়। শুরু হয় দুই পক্ষের ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া। এসময় এক যুবদল কর্মী আহত হন বলে খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার বিকেলে ছাত্রদলের নতুন কমিটির নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করতে শহরের পৌরসভা এলাকায় অবস্থান নেয় এবং পদবঞ্চিত ছাত্রদল নেতারা জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয়। এসময় আনন্দ মিছিলে যোগ দিতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা আসলে পদ বঞ্চিতরা বাধা দেয়। এক পর্যায়ে নতুন কমিটির নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় একজন আহত কর্মীকে হাসপাতালে নিতে দেখা গেছে। পরে সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করলে দুই পক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। সেনাবাহিনী ও পুলিশবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাঙামাটি শহরের পৌরসভা, কাঠালতলী এলাকা ও বনরুপার আশেপাশের এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিনের সই করা এক আদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জের কিছুক্ষণ পর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এসে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কমিটির নেতারা। এসময় জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটির সভাপতি মো. অলি আহাদ বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধারা অনেকেই আংশিক কমিটির কারণে কমিটিতে স্থান পাননি। আমরা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সবাইকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করব। আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই, প্রতিযোগিতা ছিল। আজকে থেকে প্রতিযোগিতাও নেই। আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব।
রাঙামাটির কোতোয়ালি থানায় ওসি জসীম উদ্দিন বলেন, ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে পৌরসভা, কাঠালতলী ও বনরুপা আশেপাশে এলাকায়। কোনো প্রকার মিছিল, মিটিং ও জনসভা করা যাবে না। আমাদের পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
