চট্টগ্রামে ১ লাখ ৩৯৫ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে এলো ‘এমটি নিনেমিয়া’
প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২০:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়া হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ ৩৯৫ টন অপরিশোধিত (ক্রুড) তেল নিয়ে আসা ‘এমটি নিনেমিয়া’ বন্দরের বহির্নোঙরের কুতুবদিয়া এলাকায় নোঙর ফেলেছে।
বুধবার (৬ মে) দুপুরে জাহাজটি নোঙর করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিপিসি, বিএসসি, ইআরএল ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের একাধিক সূত্র।
যুদ্ধ শুরুর পর এটি দেশে আসা ক্রুড অয়েলের প্রথম চালান। ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার লম্বা বিশাল জাহাজটির কর্ণফুলী নদী হয়ে বন্দরের ডলফিন জেটিতে আসতে না পারায় নিয়ম অনুযায়ী ছোট ছোট ট্যাংকার জাহাজে খালাস করে (লাইটারিং) নিয়ে আসা হবে। ওই তেল পরিশোধন করা হবে রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল।
বিপিসির আমদানি করা ক্রুড অয়েল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, নিরাপদে ‘এমটি নিনেমিয়া’ দেশে পৌঁছেছে। কুতুবদিয়া এলাকায় ট্যাংকারটি নোঙর করা হয়েছে। কাস্টমস ও সার্ভেয়ার কোম্পানির আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুরু হবে লাইটারিং বা ছোট ছোট ট্যাংকার জাহাজে নগরের পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে নিয়ে আসার কাজ।
তিনি আরও জানান, জাহাজটি সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকাল ৬টায় যাত্রা শুরু করে। তার আগে রাতভর এতে তেল লোড করা হয়। নিরাপদে রেড জোন পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ে নোঙর করেছে জাহাজটি। আশার কথা হচ্ছে, ফুজাইরা থেকে আরও এক লাখ টন ক্রুড নেওয়ার জন্য এমটি ফসিল নামের ট্যাংকার পাঠানো হয়েছে। সেটি ৯ মে বন্দরে ভিড়বে। ১০ মে লোড করে পুনরায় বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। ‘নর্ডিকস পলাক্স’ জাহাজে বিপিসির ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল রয়েছে, সেটি হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকার কারণে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়ে আছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ক্রুড অয়েল লাইটারিংয়ের জন্য পর্যাপ্ত অয়েল ট্যাংকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একসাথে দুটি ট্যাংকারে লাইটারিং করা হবে। এ কাজের জন্য ১০ দিন নির্ধারিত থাকলেও আশা করছি তার আগেই হয়ে যাবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন এবং প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে বিপিসি ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি বিক্রি করেছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, দুই লাইটারে ক্রুড অয়েল ডলফিন জেটিতে আনার পর ইআরএলের ট্যাংকে খালাস করা হবে। ইতোমধ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিশোধন কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। একটি জাহাজের তেল খালাস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চার ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। আশা করছি সব মিলে বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেল নাগাদ ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট চালু হবে।
