রংপুর অঞ্চলে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা-মাড়াই

প্রকাশ : ০৬ মে ২০২৬, ২২:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

রংপুর অঞ্চলে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা-মাড়াই। পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে এই অঞ্চলে কৃষি অফিস বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৪ লাখ ৪৯ হাজার হেক্টর। সেই বছর লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে অর্থাৎ ৫ লাখ ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের রেকর্ড হয়েছিল। এরপর আর লক্ষ্যমাত্রা কমেনি।

এবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫ লাখ ৩ হাজার হেক্টর। সেখানে আবাদ হয়েছে ৫ লাখ ৯ হাজার হেক্টর জমিতে। গত পাঁচ বছর থেকে এই অঞ্চলের বোরো চাষিদের বোরো ধান চাষে আগ্রহ বেড়েছে। প্রকৃতিতে যতদূর চোখ যায় শুধু বোরো ধানের মৌ-মৌ গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে। ধানের গন্ধে মাতোয়ারা কৃষক-কৃষানি।

ধান কাটার শ্রমিক সংকটে এবারও রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষি মৌসুমি শ্রমিকরাও রয়েছে চাঙ্গাভাবে। বেড়েছে তাদের কদর। এবার বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই করে একমাসে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয় করবেন কৃষি শ্রমিকরা। গত কয়েক মৌসুম থেকে কৃষি শ্রমের মূল্য ৫/৬ গুণ বৃদ্ধি হওয়ায় শ্রমিকরা বেজায় খুশি। বাজারে ধানের দাম স্বাভাবিক থাকায় কৃষকরাও শ্রমিকদের বেশি মূল্য দিতে কার্পণ্য করছেন না।

জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলে পাঁচ জেলার বোরোধান আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা বেশি হয়েছে। প্রতি হেক্টেরে চালের গড় উপৎপাদন ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৫ মেট্রিক টন। সেই হিসেবে ২৩ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের আশা করা যাচ্ছে। ধানের হিসেবে ৩৫ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হবে। সোমবার পর্যন্ত মোট আবাদের ৭ শতাংশ ধান কাটা-মাড়াই হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে আরও ২০ শতাংশ ধান কৃষকের গোলায় উঠবে এমনটা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

এদিকে ধান কাটা মাড়াই করতে কৃষি শ্রমিক পাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দিন হাজিরায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

মিঠাপুকুরের কৃষক হাবিবুর রহমান, রংপুর সদরের গৌরাঙ্গ রায়, মন্টু মিয়াসহ বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, হাট বাজারগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির বোরো ধান কেনা বেচা হচ্ছে এক হাজার টাকা পর্যন্থ। কোথাও এরচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

চলতি রবি মৌসুমে সমগ্র পীরগন্জ উপজেলায় ধানচাষের লক্ষ্যমাত্রার বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগন্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.শাহজাহান আলী এ প্রতিনিধি কে জানান, চলতি ২০২৬/২০২৭ অর্থ বছরে পীরগন্জ উপজেলার সর্বমোট ১৫টি ইউনিয়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৪৭৫ হেক্টর। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সুমন আহমেদ আশাবাদী এবারের রবি মৌসুমে ব্যাপক বাম্পার ফলন হওয়ায় অতীতের সকল রেকর্ড অতিক্রম করবে কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, ৫ বছর আগেও ১ একর জমির ধান কাটা মাড়াই করতে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা লাগত। এক দোন (২৪ শতক) জমির ধান কাটা মাড়াই করে ঘরে তুলতে কৃষকদের খরচ হচ্ছে চার হাজার টাকার ওপর। সেই হিসেবে প্রতি একরে খরচ পড়ছে প্রায় ১২/১৪ হাজার টাকা। অপরদিকে, দিন হাজিরায় যেসব শ্রমিক কাজ করত তাদেরও মজুরি বেড়েছে কয়েকগুণ।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে প্রায় ১০ লাখ, নীলফামারীতে ৫ লাখ, লালমনিরহাটে ৪ লাখ, গাইবান্ধায় ৬ লাখ, কুড়িগ্রামে ৭ লাখ, দিনাজপুরে ১২ লাখ, ঠাকুরগাঁয়ে ৭ লাখ, পঞ্চগড়ে ৩ লাখ কৃষি শ্রমিক রয়েছে। এরা শুধু বোরো ও আমন মৌসুমে ধানা কাটা মাড়াইয়ের কাজ করেন। অন্য সময়ে এরা শহরে রিকশা, ভ্যান অথবা অন্য কোনো পেশা গ্রহণ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের সেচ বাবদ ব্যয় কিছুটা সাশ্রয় হয়েছে। ফলে কৃষকরা লাভবান হবেন।