রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপন

প্রকাশ : ০৮ মে ২০২৬, ২০:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে যুক্ত হলো আরেক মাইলফলক। রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি করপোরেশন রসাটম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরুর মাধ্যমে ‘স্টার্ট-আপ’ বা চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এই প্রকল্প। ইউনিটটিতে আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে কেন্দ্রটির নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনার পথ সুগম হলো।

রসাটমের অটোমেশন ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ‘রসাটম অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস’ এই প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে। প্রথম ইউনিটের জন্য স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ এবং বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ মোট ২২টি সাব-সিস্টেম স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোসাটম জানায়, এই সিস্টেমের মূল কাজ বিদ্যুৎ ইউনিটের কমিশনিং এবং নিয়মিত পরিচালনাকালে যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া রেডিয়েশন মনিটরিং ও সার্বিক প্রযুক্তিগত দিকগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গ্লেব মুরাশভ জানান, রূপপুর প্রকল্পের বিশেষত্ব বিবেচনা করে এই সিস্টেমে বেশ কিছু উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা প্রথমবারের মতো এখানে কমপ্যাক্ট বেঞ্চ-টাইপ নকশা ব্যবহার করেছি, যার মধ্যে স্বয়ংক্রিয় বিকিরণ পর্যবেক্ষণ সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সকল সরঞ্জাম সরবরাহ ও কমিশনিং সম্পন্ন হয়েছে।”

উল্লেখ্য, রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে।
কেন্দ্রটির সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। থ্রি-প্লাস জেনারেশনের এই রিঅ্যাক্টর নকশাটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে তৈরি।

বর্তমানে এই একই প্রযুক্তির ৬টি ইউনিট রাশিয়া ও বেলারুশে সফলভাবে চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে রোসাটম। এছাড়া মিশর, হাঙ্গেরি, তুরস্ক ও চীনেও একই প্রযুক্তির পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে।