চট্টগ্রাম বন্দরে লক্ষ্যনীয়ভাবে নিরাপত্তা জোরদার
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১২:৩৭ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙর (Outer Anchorage) এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতি ও ছিঁচকে চুরি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সময়োপযোগী ও সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে এই এলাকায় নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দরের ভাবমূর্তি ও সুনাম বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে।
বহির্নোঙরে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বর্তমানে কার্যকর কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে—
বাধ্যতামূলক পোর্ট ওয়াচম্যান নিয়োগ: বহিঃনোঙরে অবস্থানরত প্রতিটি জাহাজে চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ কর্তৃক বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ‘পোর্ট ওয়াচম্যান’ নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষিত কর্মীরা জাহাজে সার্বক্ষণিক পাহারায় নিয়োজিত থাকছেন।
সমন্বিত নিরাপত্তা ও টহল: বন্দরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নিরাপত্তা বিভাগ নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সাথে সমন্বিতভাবে নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড এবং বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগের মধ্যে সার্বক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি: আধুনিক VTMIS (Vessel Traffic Management and Information System) এর মাধ্যমে পোর্ট কন্ট্রোল থেকে বর্হিঃনোঙরে থাকা জাহাজগুলোর ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে।
নৌ-পুলিশ ও গোয়েন্দা সমন্বয়: নৌ-পুলিশের সাথে কার্যকর সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাথে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করা হচ্ছে, যা অপরাধীচক্র শনাক্ত ও প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্টেকহোল্ডারদের সাথে যোগাযোগ: বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন বার্থ অপারেটর, শিপ হ্যান্ডিলিং অপারেটর, শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ সকল অংশীজনের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা হচ্ছে, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে বহিঃনোঙর এলাকা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। এর ফলে আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোর মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিরাপদ ও আধুনিক বন্দর বিনির্মাণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আগামীতেও এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
