অশ্লীল নাচ-গানের অভিযোগ, নারীর মরদেহ দাফনে বাধা

প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ২১:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

অশ্লীল নাচ-গান করাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে চুয়াডাঙ্গায় সুবর্ণা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছে স্থানীয়রা। 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে ওই নারীর মরদেহ শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে এসে পৌঁছালে সেখানে দাফন কাজে বাধা দেয় এলাকার লোকজন।

এর আগে বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্না আক্তার। সেখানে স্বামীর সাথে বসবাস করতেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তাকে চুয়াডাঙ্গার শহরতলীর দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে নেয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর তার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সুবর্ণা ছোট থেকেই নাচ-গান করে বেড়াতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচতে যেত। সে টিকটকে অশ্লীল নাচানাচি করত। এমনকি তার পরিবারের লোকজন মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত। এসব কাজে বাধা দিলে বহিরাগত লোকজন এনে এলাকাবাসীকে হুমকি ধামকি দিত। তাছাড়া তারা এখানকার স্থানীয় না। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় ভাড়ায় আসেন তারা। সুবর্না আক্তারের দাফন তার বাবা অথবা স্বামীর গ্রামে দেওয়ার জন্য দাবি জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয় আসাদুজ্জামান নামে একজন বলেন, এলাকার লোকজন তাকে আমাদের কবরস্থানে দাফন দিতে আপত্তি জানিয়েছে। তার বাবা কিংবা স্বামীর বাড়িতে দাফন করুক।

আরেকজন মিনারুল ইসলাম বলেন, এটি আমাদের এলাকাবাসীর কবরস্থান। সে আমাদের কবরস্থানের সদস্য না। এর আগে সদস্য হওয়ার কথা বললেও তারা অগ্রাহ্য করেন।

সুবর্না আক্তারের সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন বলেন, এর আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্যের মৃত্যু হয়, তখন দাফনে বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু এখন সুবর্নার মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কবর খুঁড়তে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা চিন্তা করছি অন্য কোথাও দাফন করার।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা দৌলতদিয়াড় দক্ষিণ পাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের (৩৫) বিয়ে হয় চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের কুলচারা ক্যানাল পাড়ার কাউসারের ছেলে তুহিনের সঙ্গে। সংসারে পরপর দুই মেয়ে এক ছেলে জন্ম নেয়। সংসারে দাম্পত্য কলহের জেরে হলে গত ৬ বছর আগে স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেলের সঙ্গে বিয়ে করে সুবর্ণা। সুবর্ণার পরিবারের লোকজনের দাবি স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে আত্মহত্যা করেছে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে।