রংপুরে কোরবানির পশু ঘিরে ১০ হাজার কোটি টাকার বাজার

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ২১:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

ঈদুল আজহা সামনে রেখে রংপুর বিভাগের হাট-বাজারগুলোতে কোরবানির পশুর বেচাকেনা জমে উঠেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বিভাগে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে। এই কেন্দ্রকে ঘিরে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধু পশু নয়, এই সময়ে মসলা, লবণ, চামড়া এবং নতুন কাপড়ের বাজারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রংপুর নগরীর লালবাগ ও বুড়িরহাটসহ কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট আকারের গরু ৭০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, মাঝারি গরু ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং বড় গরু আড়াই লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদাই বেশি। গড়ে প্রতিটি গরুর দাম দেড় লাখ টাকা ধরে ৫ লাখ গরুর বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা।

অন্যদিকে প্রতিটি খাসি ও ছাগল ১২ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গড়ে ১৫ হাজার টাকা ধরে ১০ লাখ খাসি-ছাগলের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি কোরবানির পশুর জন্য গড়ে ৫০০ টাকার মসলা প্রয়োজন হয়। সে হিসাবে মসলা বাণিজ্যে যুক্ত হতে পারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

একটি গরুর চামড়া সংরক্ষণে গড়ে আট কেজি এবং একটি ছাগলের চামড়া সংরক্ষণে প্রায় তিন কেজি লবণ লাগে। গড়ে ছয় কেজি হিসেবে হিসাব করলে চামড়া সংরক্ষণে ১০ লাখ কেজির বেশি লবণের প্রয়োজন হবে। প্রতিকেজি লবণের দাম ৩৫ টাকা ধরে এই খাতে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে।

চামড়ার বাজারেও বড় অঙ্কের লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি গরুর চামড়া গড়ে এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হলে পাঁচ লাখ গরুর চামড়া থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা আসবে। আর প্রতিটি ছাগলের চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হলে সেখান থেকে ১৫ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হতে পারে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ঈদুল আজহায় রংপুর বিভাগের আট জেলায় প্রায় ১৫ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ১৫ লাখে পৌঁছাতে পারে। মোট পশুর এক-তৃতীয়াংশ গরু এবং দুই-তৃতীয়াংশ খাসি-ছাগল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসাবে এবার বিভাগে প্রায় ৫ লাখ গরু এবং ১০ লাখ খাসি-ছাগল কোরবানি হতে পারে।

রংপুর নগরীর লালবাগ হাটে আমিনুল ইসলাম নামের এক খামারি একটি গরু ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তিনি বলেন, সারা বছর গরু লালন-পালন করেছি কোরবানির জন্য। বিক্রির টাকা দিয়ে সংসারের বাড়তি খরচ মেটাব।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৪ জন খামারি ইতোমধ্যে ২০ লাখের বেশি গরু, মহিষ, ছাগল, উট, দুম্বা ও ভেড়া কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন, যা বিভাগের মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় সাড়ে ৫ লাখ বেশি।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল হাই সরকার বলেন, এ বছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রংপুর বিভাগের অর্থনীতিতে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি যোগ হতে পারে। এর মধ্যে শুধু গবাদিপশু খাতেই প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হবে।