চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা দূর করাই এখন প্রধান লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ২২:১০ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ চলতি বছরেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে নগরে আর স্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না।
শনিবার (১৬ মে) বেলা তিনটার দিকে নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হলে প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করা হবে। কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না। পানি নিষ্কাশনে আর সমস্যা হবে না। তবে অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িক জলজট হতে পারে।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দুটি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। গত আট বছরে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার নির্মাণ ব্রিগেড।
অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের কিছু সমস্যা রয়েছে। অতীতে যথাযথ অর্থায়ন না হওয়ায় এখন বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারি তহবিলে চাপ পড়ছে।
পাশাপাশি আগের সরকারের রেখে যাওয়া দায়ও পরিশোধ করতে হচ্ছে। তারপরও চট্টগ্রামের প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন করে মানুষের কষ্ট দূর করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
যদি এসব প্রকল্পে কোনো অনিয়ম বা লুটপাট হয়ে থাকে, তবে তার তদন্ত করা হবে। কারা জড়িত, তাদেরও চিহ্নিত করা হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বর্ষা মৌসুমের কারণে কিছু অসমাপ্ত কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে বর্ষা শেষে দ্রুত গতিতে কাজ শেষ করা হবে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ছোট-বড় ১৩০টি খাল প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে না।
কতটুকু বৃষ্টিতে কী পরিমাণ পানি প্রবাহিত হবে এবং কীভাবে তা সাগরে নিষ্কাশিত হবে—সবকিছুর পূর্ণ হিসাব করেই কাজ করা হচ্ছে।
জোয়ার-ভাটা, স্লুইসগেট পরিচালনা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অতীতে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সমন্বয়ের অভাব ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে সমন্বিতভাবে কাজ হয়নি।
এখন সবাই সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রামের মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
এ সময় নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, খালকে ময়লা ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোমরসমান, কোথাও হাঁটুপানিতে জনজীবন অচল হয়ে পড়ে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে প্রবর্তক মোড় ও আশপাশের এলাকা। হাসপাতাল, রোগনির্ণয় কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের কারণে এলাকাটি সবসময় ব্যস্ত থাকে।
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী, তিন প্রতিমন্ত্রী ও সিটি মেয়র বিভিন্ন খালে চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন।
এ সময় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার নির্মাণ ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলম এবং প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
