ঈশ্বরদীতে চাহিদার দ্বিগুণ কোরবানির পশু প্রস্তুত
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১২:১৬ | অনলাইন সংস্করণ
আলমাস আলী, ঈশ্বরদী (পাবনা)

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পাবনার ঈশ্বরদীতে জমে উঠেছে গবাদিপশুর বাজার। ভোগান্তি এড়াতে অনেকেই আগেভাগেই ভাগে ভাগে কোরবানির পশু কিনছেন। কেউ হাট থেকে, কেউ খামার কিংবা গৃহস্থের বাড়ি থেকে পছন্দমতো গরু-ছাগল সংগ্রহ করছেন। সারাবছর লালন-পালন করা পশু বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও গৃহস্থরা।
খামারিরা বলছেন, ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ না করলে এবার দেশীয় খামারিরা ভালো লাভের মুখ দেখবেন। বর্তমানে বাজার দর মোটামুটি সন্তোষজনক রয়েছে। কোরবানির আগ পর্যন্ত এ অবস্থা বজায় থাকলে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তারা। তবে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু ঢুকলে লোকসানের শঙ্কাও রয়েছে।
ঈশ্বরদীতে দিন দিন বাড়ছে গবাদিপশুর খামার। এক সময় যেখানে হাতে গোনা কয়েকটি খামার ছিল, এখন উপজেলার গ্রামাঞ্চলে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় খামার।
শনিবার (১৬ মে) বিভিন্ন পশুর হাট, খামার ও গৃহস্থের বাড়ি ঘুরে খামারি, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৪ সালে ভারত থেকে গরু আমদানি কমে যাওয়ার পর থেকেই ঈশ্বরদীতে বাণিজ্যিক খামারের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। বর্তমানে শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারাও এ খাতে বিনিয়োগ করছেন।
উপজেলায় এবার ঈদুল আজহা উপলক্ষে ৩ হাজার ৫৫ জন খামারি প্রায় ৭৪ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত করেছেন। অথচ উপজেলার কোরবানির চাহিদা প্রায় ৪৩ হাজার পশু। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পশু সরবরাহ করা হচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় পশুর হাট অরণখোলার হাওয়াখালী হাটের আশপাশে গড়ে উঠেছে শতাধিক খামার। এখানকার বড় গরুগুলো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে সাড়ে ৩ মণ ওজনের গরু ৯০ থেকে ৯৫ হাজার টাকা, ৫ মণ ওজনের গরু প্রায় দেড় লাখ টাকা এবং ৮ থেকে ১০ মণ ওজনের গরু ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মণ গরুর দাম রয়েছে ৩০ থেকে ৩২ হাজার টাকার মধ্যে।
খামারিরা জানান, মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা এবার বেশি। তবে পশুর খাদ্য, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ বিল ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে।
অরণকোলা গ্রামের তানভীর দুগ্ধ খামারের মালিক গোলাম কিবরিয়া সোহান বলেন, তাদের খামারে কোরবানির জন্য ১৫০ থেকে ২০০ গরু প্রস্তুত করা হয়েছিল। এর মধ্যে অনেক গরু বিক্রি হয়ে গেছে। তিনি জানান, দুই বছর লালন-পালন করা ১ হাজার ৪০০ কেজি ওজনের একটি গরুও সম্প্রতি বিক্রি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খরচ বেড়ে যাওয়ায় একটি গরু বিক্রি করে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ করাও কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধ রাখা গেলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন।
মুনতাহা দুগ্ধ খামারের মালিক বাচ্চু প্রামাণিক বলেন, অনলাইন ও সরাসরি—দুইভাবেই তারা গরু বিক্রি করছেন। তিনি ক্রেতাদের খামার দেখে গরু কেনার পরামর্শ দেন।
তোহা দুগ্ধ খামারের মালিক আমিনুল হক বলেন, এখন অনেকেই হাটে না গিয়ে সরাসরি খামার থেকে গরু কিনছেন। ভারতীয় গরু দেশে না এলে স্থানীয় খামারিরা ভালো দাম পাবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের শল্যচিকিৎসক ডা. মো. ফারুক হোসেন বলেন, অনেক শিক্ষিত তরুণ এখন খামার গড়ে আত্মকর্মসংস্থানের পথ বেছে নিচ্ছেন। আধুনিক পদ্ধতিতে খামার পরিচালনা করলে এ খাত থেকে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা খাতুন জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটগুলোতে জরুরি চিকিৎসাসেবা দিতে দুটি ভেটেরিনারি চিকিৎসক দল গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গবাদিপশুর খামার এখন গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। খামারিদের প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করা হচ্ছে।
