বনরক্ষীদের গুলিতে জেলে নিহতের অভিযোগ, বন অফিসে হামলা
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ১৫:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবনে কাঁকড়া শিকার করতে গিয়ে আমিনুর রহমান (৪৫) নামের এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৮ মে) সকালে খুলনা রেঞ্জের সংরক্ষিত বনাঞ্চল পাটকোস্টার ঝিল এলাকায় কাঁকড়া ধরার সময় বনবিভাগের টহল টিমের ছোঁড়া গুলিতে তিনি নিহত হন বলে দাবি তার সহযোগীদের।
তিন সন্তানের জনক আমিনুর রহমান শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নং সোরা গ্রামের মৃত আকছেদ আলী গাজীর ছেলে।
নিহতের সহযোগী জেলে আহম্মদ মোড়ল জানান, তিনদিন আগে বনবিভাগের পাশ (অনুমতিপত্র) নিয়ে দুটি নৌকাযোগে তারা চারজন বনজীবী সুন্দরবনে যান কাঁকড়া শিকারের জন্য। সোমবার সকাল থেকে খুলনা রেঞ্জের পাটকোসটার ঝিলে এলাকায় (অভয়ারণ্য) নৌকায় বসে তারা কাঁকড়া শিকার করছিলেন। এক পর্যায়ে সকাল সাতটার দিকে পার্শ্ববর্তী টহলফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিমের সদস্যরা পিছন থেকে ডাক দেয় এবং টিমের সদস্যরা এক রাউন্ড গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলে আমিনুরের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে দুপুর একটার দিকে মৃতদেহ নিয়ে তারা এলাকায় ফিরে আসে।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে কাঁকড়া শিকারে যাওয়া জেলেদের উপর বনবিভাগের টহল টিমের সদস্যরা গুলি ছুঁড়েছে। সে ঘটনায় আমিনুর নামের এক জেলে নিহত হওয়ার পর স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বনজীবীরা সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন ও তদসংলগ্ন রেঞ্জ কার্যালয় ঘেরাও করার জন্য সেখানে জড়ো হতে শুরু করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জলদস্যুরা গোটা সুন্দরবনজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও বনবিভাগ বা কোস্টগার্ড তাদের টিকিটি পর্যন্ত ছুঁতে পারছে না। অথচ নিরীহ জেলেদের উপর গুলি চালিয়ে লাখ লাখ বনজীবীর জন্য সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে পরোক্ষভাবে ভীতি ছড়াচ্ছে।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, বর্তমানে সুন্দরবনে দস্যু দমনে অভিযান চলছে। প্রকৃতপক্ষে কাদের গুলিতে ঐ জেলের মৃত্যু হয়েছে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
জেলে নিহতের ঘটনাটি খুলনা রেঞ্জে ঘটেছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে টহল টিম পরিচালনার কথা জেলেদের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, আমিনুর রহমানের নিহতের ঘটনার সাথে বনরক্ষী কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে অবশ্যই প্রচলিত আইনের আওতায় আনা হবে তাকে।
এদিকে বনরক্ষীদের গুলিতে জেলে আমিনুরের নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে বিকেল ৪টার দিকে দুই শতাধিক বনজীবী দলবদ্ধ হয়ে বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও পার্শ্ববর্তী বুড়িগোয়ালীনি স্টেশন অফিসে হামলার চেষ্টা করে। কয়েক মিনিট ধরে ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও সীমানা বেঁড়া ভাঙচুরের পরপরই শ্যামনগর থানা পুলিশ পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে।
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক জানান, গুলিতে এক বনজীবী নিহতের ঘটনায় উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত বনজীবীদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে নিহত আমিনুরের মৃতদেহ এলাকায় পৌঁছেছে। অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে আইনের আওতায় নেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পুলিশ প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
