চাঁদপুরে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৬৬ হাজার পশু, ঘাটতি ৯ হাজার
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬, ১৬:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
চাঁদপুর প্রতিনিধি

ঈদুল আজহায় চাঁদপুর জেলায় পারিবারিক ও খামারিদের লালন পালন করা গবাদি পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মিটে। এ বছরও জেলায় উৎপাদিত গবাদি পশুর সংখ্যা ৬৬ হাজার ৯৮টি। চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে ৯ হাজার পশু।
খামারিরা বলছেন, ভারত থেকে গরু আমদানি না হলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে জানা গেছে, কোরবানির জন্য জেলায় প্রস্তুত রয়েছে ২৭ হাজার ৩৪৬টি ষাড়, ৮ হাজার ৩৬৬টি বলদ, ১০ হাজার ৫৭১টি গাভী, মহিষ ২৩টি, ছাগল ১৯ হাজার ৩৪৬টি এবং ভেড়া ৪৪৬টি।
সরেজমিনে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ৮ উপজেলায় কোরবানির পশু জোগান দিতে ৪ হাজার ১৫৫ জন উদ্যোক্তা রয়েছে। অনেকেই কয়েকমাস আগে কিছু ষাঁড় সংগ্রহ করে কোরবানিযোগ্য করে তোলে। বেশিরভাগ খামারি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাবার দেন এসব পশুকে। ছোট থেকে মাঝারি সাইজের ষাঁড় গুলো বিক্রি হয় স্থানীয় কোরবানির পশুর হাটে। বড় সাইজের ষাঁড় খুবই কম বিক্রি হয়। এসব বিক্রির জন্য অনলাইন মার্কেট বেশি ব্যবহার হয়।
বেশ কয়েকটি খামারে দেখা গেছে, বিক্রয়যোগ্য ষাঁড় গুলোর যত্ন নিচ্ছেন শ্রমিকরা। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে এসব ষাঁড় বিক্রি হবে কোরবানির পশুর হাটে।
সদর উপজেলার নানুপুর গ্রামের খামারি খালেদ খান বলেন, তিনি গত ২০ বছর উদ্যোক্তা হিসেবে গবাদি পশু পালন করে আসছেন। রমজান মাসের আগ থেকে ষাঁড় ক্রয় করেন। সেগুলো কয়েকমাস লালন পালন করে বিক্রি করেন। কোরবানির হাটের জন্য প্রস্তুত করেছেন বেশ কয়েকটি ষাঁড়। দাম ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজারের মধ্যে। ভারতীয় ষাঁড় আমদানি না হলে ভালো দাম পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একই ইউনিয়নের ঘাষিপুর গ্রামের খামারি আহম্মদ আলী বলেন, তিনি দেশীয় খাবার দিয়ে ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। প্রতিবছর এভাবে কোরবানিতে বিক্রি করেন। এ বছর তার খামারে বিভিন্ন জাতের গরু রয়েছে ৩২টি। এর মধ্যে ষাঁড় রয়েছে ৭টি।
সদরের মৈশাদি ইউনিয়নের হামানকর্দ্দি গ্রামের নার্গিস বেগম তিনটি বড় ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী এসব ষাঁড়ের মধ্যে বড়টির নাম রাজা বাবু। এটির দাম চাচ্ছেন ১২ লাখ। ৪ বছর বয়সী হামানকর্দি কিং। এটির দাম চাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা। সবচাইতে ছোট ষাড়টির দাম চাচ্ছেন ৫ লাখ টাকা।
এই খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন মো. মোসলেম। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ঘাস, খৈল, খড় ও ভুসি খাওয়ানো হয়েছে এসব ষাড়গুলোকে। আমি নিজে এসব ষাড়গুলোর যত্ন নিচ্ছি।
একই ইউনিয়নের আরেক উদ্যোক্তা তানভীর আহমেদ বলেন, স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ষাড়গুলোকে খাবার দিয়ে কোরবানির জন্য উপযুক্ত করা হয়েছে। আশা করি বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।
শহরের নিউ ট্রাক রোডের বাসিন্দা আব্দুল বারেক বলেন, সাধারণত শহরের লোকজন স্থানীয় খামারিদের ষাঁড় ক্রয় করতে আগ্রহী। গত একযুগের অধিক সময় ধরে আমাদের পরিবার স্থানীয় খামারিদের গরু ক্রয় করে কোরবানি দেয়। ব্যাপারীদের গরু নিয়ে শঙ্কা থাকে। তারা মোটাতাজা করণের জন্য অনেক সময় মেডিসিন প্রয়োগ করে।
চাঁদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৭৫ হাজার। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ি খামারিদের কাছে রয়েছে ৬৬ হাজার। বাকি ৯ হাজার জোগান দেবে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। আশা করি কোনো ধরনের সংকট হবে না।
