সিরাজগঞ্জে দুর্নীতির অভিযোগে সেই পিআইও সাময়িক বরখাস্ত
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১৯:২২ | অনলাইন সংস্করণ
স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তিনি পাবনার সুজানগর উপজেলার হাসামপুর গ্রামের শমসের আলীর ছেলে।
দুদকের দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় কারাগারে থাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় তাকে বরখাস্ত করেন।
ওই মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইদুর রহমান খান স্বাক্ষরিত পত্রে ৭ মে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও বিষয়টি গোপন ছিল।
ওই পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকায় আবুল কালাম আজাদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। এ মামলার বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি বিধি মোতাবেক খোরপোষ ভাতাদি প্রাপ্য হবেন। ৪ মে গ্রেপ্তারের দিন থেকে এ আদেশ কার্যকর হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ওই পিআইও’র বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৮ মে আবুল কালাম আজাদ, তার স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বি রিয়নের বিরুদ্ধে সম্পদের হিসাব দাখিলের আদেশ দেওয়া হয় এবং তারা ৩ জুলাই সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় পিআইও আবুল কালাম আজাদ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠে। তার স্ত্রী স্বামীর অবৈধ আয় দ্বারা ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রাখার প্রমাণ পায় দুদক। এছাড়াও ছেলের বিরুদ্ধে বাবার অবৈধ ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ভোগ দখলের অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে, পিআইও’র শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পায় দুদক কর্মকর্তারা। পরে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তার নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হয়। একই বছরের ৮ ডিসেম্বর ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের হিসাব দাখিল করেন তিনি।
অনুসন্ধানকালে জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮২ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পায় দুদক। এরপর ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদি হয়ে আরো ১টি মামলা করেন। এক পর্যায়ে ৩ মে রাতে দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি টিম পাবনার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই পিআইওকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরের দিন তাকে পাবনার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
