রংপুরে কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে নগরীর সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ২১:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

  রংপুর ব্যুরো

রংপুরে কয়েক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে নগরীর কয়েকটি সড়ক ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে করে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। শ্যামা সুন্দরী খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল পর্যন্ত মহানগরীতে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতেই নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও শ্যামা সুন্দরী খালের বেহাল দশা চরমভাবে ফুটে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিউ আদর্শপাড়া, নগরীর খামার মোড় এলাকা, বাবুখাঁ, মাস্টারপাড়া, আবহাওয়া অফিস এলাকা, চারতলা মোড় কলোনি, লালবাগ, পার্কের মোড়, মেডিকেল ক্যাম্পাস, স্টেশন এলাকা, লালবাগ রোড, দর্শনাসহ অন্তত ৩৩টি ওয়ার্ডের সড়কে হাঁটুপানি জমে আছে। এছাড়াও নগরীর রবাটসন্সগঞ্জ, তাতিপাড়া, নীলকণ্ঠ সোটাপীর, শান্তিবাগসহ প্রায় ৫০টি নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

এছাড়াও রাস্তার অনেক জায়গায় ড্রেনের ময়লা পানি উপচে রাস্তায় চলে আসায় দুর্গন্ধের কারণে চলাফেরা করা দায় হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে ময়লা পানির মধ্য দিয়েই চলাচল করছেন। আবার অনেকের বাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। কারও কারও বিছানা পর্যন্ত পানি উঠেছে। এমন অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন এসব নিম্নাঞ্চলের মানুষজন।

নগরবাসীর অভিযোগ, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সিটি কর্পোরেশন একের পর এক রাস্তা নির্মাণ করেছে, কোথাও কোথাও অপরিকল্পিতভাবে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন তৈরি করেছে। আবার অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। কোথাও ড্রেন থাকলেও সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার বা সংস্কার করা হয় না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আবার কোথাও বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, রংপুর নগরীর ‘ফুসফুস’খ্যাত শ্যামাসুন্দরী খালের বেহাল অবস্থা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে শ্যামাসুন্দরী খাল সংস্কারের দাবি উঠলেও সম্প্রতি খাল সংস্কার কাজ শুরু হওয়ার পর ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। খাল সংস্কার না হওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নগরীর নিম্নাঞ্চলের পানি সময়মতো নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, যা নগরবাসীর জন্য চরম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নগরীর নীলকণ্ঠ সোটাপীর এলাকার ফজলার রহমান জানান, এই এলাকায় কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। যার কারণে একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাসহ এলাকায় পানি জমে যায়। রাস্তায় চলাচল যেমন কষ্টকর, তেমনি বাড়িতে পানি ওঠায় বসবাসও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের। অনেক চেষ্টা করেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।

আবহাওয়া অফিস এলাকার রমিজ আলম জানান, এই এলাকায় অল্প বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি ওঠে। অথচ এখানে বড় বড় ভবন ও রাস্তা হয়েছে, কিন্তু কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তা ডুবে যাচ্ছে। এলাকার ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় ভেসে বেড়াচ্ছে। এই অবস্থার মধ্য দিয়েই আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।

চারতলা মোড় কলোনির বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নগরীর মধ্যে পরিকল্পনাহীনভাবে বাড়িঘর নির্মাণ হচ্ছে, অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ হচ্ছে। পানি হলে ড্রেন পানির নিচে চলে যায়। আবার কোথাও ড্রেন থাকলেও পরিষ্কারের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে ময়লা-আবর্জনায় ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে আছে। তাহলে পানি যাবে কোথায়? এসব দেখার যেন কেউ নেই।

রফিকুল ইসলাম বলেন, বাবুখাঁ এলাকায় কয়েক দশক ধরে বসবাস করে আসছি। প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে আমাদের এলাকা ডুবে যায়। রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা শুধু ড্রেন নির্মাণ ও পরিষ্কারের আশ্বাস দেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। এভাবেই বছরের পর বছর চলছে। আমাদের কষ্টের কথা কেউ ভাবে না। নেতারা শুধু নিজেদের কথাই চিন্তা করেন।

এ বিষয়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বরত) রাকিব হাসানকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সিটির প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, সড়ক ও নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতা পরিদর্শন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলছে। এ সময় তিনি শ্যামাসুন্দরী খাল খননে নিয়মমাফিক বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে।

এদিকে রংপুরের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, মহানগরীতে গত রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন বৃষ্টিপাত আরও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।