রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কিশোরগঞ্জের আরও এক যুবক নিহত
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৬, ১১:৩৪ | অনলাইন সংস্করণ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে গিয়ে ড্রোন হামলায় কিশোরগঞ্জের আরও এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত জাহাঙ্গীর হোসাইন (২৭) করিমগঞ্জ উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের কান্দাইল-বাগপাড়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৮ মে ইউক্রেন সীমান্তসংলগ্ন রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ড্রোন হামলায় নিহত হন জাহাঙ্গীর।
শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। মা জাকিয়া বেগম ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাহাঙ্গীরের বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং মা পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন। করোনাকালে পরিবারটি ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। এসএসসি পাসের পর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন জাহাঙ্গীর। পরে স্ত্রী মাশুকা হোসাইনকে নিয়ে ঢাকায় থাকলেও আর্থিক সংকটের কারণে আবার গ্রামে ফিরে আসেন। চার মাস আগে ভালো চাকরির আশায় শ্বশুরবাড়ির আর্থিক সহায়তায় রাশিয়ায় যান তিনি।
স্বজনদের দাবি, রাশিয়ায় নেওয়ার পর প্রথমে তাকে একটি শূকরের খামারে কাজ দেওয়া হয়। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে রেস্তোরাঁয় চাকরির আশ্বাস দিয়ে জাহাঙ্গীরসহ সাতজনকে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর জোরপূর্বক তাদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রায় দুই মাস প্রশিক্ষণের পর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হলে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই প্রাণ হারান জাহাঙ্গীর।
জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই জাভেদ জানান, রাশিয়ার একটি সেনা শিবিরে থাকা তার ভাইয়ের বন্ধু মৃদুল ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মৃত্যুর খবর জানান।
তিনি বলেন, ওই হামলায় জাহাঙ্গীরসহ তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহত অন্য দুজন হলেন মাদারীপুরের সুরুজ কাজী ও কুমিল্লার ইউসুফ খান। তাদের মরদেহ এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে পড়ে রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
জাভেদ আরও বলেন, দুই সপ্তাহ আগে পরিবারের সঙ্গে জাহাঙ্গীরের শেষ কথা হয়েছিল। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, কিছুদিন যোগাযোগের বাইরে থাকতে হবে।
জাহাঙ্গীরের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম বলেন, পরে তারা জানতে পারেন জাহাঙ্গীর রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। তিনি দেশে ফিরে আসার জন্য বললেও আর ফেরা হয়নি তার।
আড়াই বছরের ছেলে আজানকে কোলে নিয়ে স্ত্রী মাশুকা হোসাইন বলেন, সংসারের ভাগ্য বদলাতে রাশিয়া গিয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। কিন্তু তাকে যুদ্ধে পাঠানো হয়। এই যুদ্ধে শুধু তার স্বামী নয়, পুরো পরিবারই শেষ হয়ে গেছে।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমরানুল কবির বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও পরিবারের কাছ থেকে মৃত্যুর খবর জানা গেছে। তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে, গত ২ মে একই উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের মাঝিরকোনা গ্রামের রিয়াদ রশিদ নামের আরেক যুবকও রুশ বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত হন।
