দুর্গাপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১৬:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ৫ বছরের এক শিশুকে চকোলেট ও খেলার লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাকিব মিয়া (১৬) নামে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় দুর্গাপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। পরে শিশুটির দাদু রাশিদা আক্তার নেত্রকোনা শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলা তুলে নিতে গত ১০ মে বাদীর পরিবারকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আদালতের নির্দেশে মামলা রেকর্ড করে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ। পরে সাকিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, মামলার আসামির জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে বিবাদীপক্ষ এই হুমকি দেয়। এ ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
শিশুটির বাবা-মা ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। বাবা রাসেল মিয়া কষ্টে সংসার চালান। ঘটনার খবর পেয়ে মা রোজিনা খাতুন চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসেন। মামলার কাজে কয়েকদিন অনুপস্থিত থাকায় তার চাকরিও চলে যায়। শিশুটিকে তার দাদু রাশিদা আক্তার লালন-পালন করেন।
সাকিব মিয়া উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের তিতারজান গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে। তরিকুল ইসলাম এলাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তি বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। বাদী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে গত ১২ মে দুর্গাপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন শিশুটির মা রোজিনা আক্তার। ডায়েরি নম্বর- ৬০৮।
মামলার বিবরণ ও সাধারণ ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, উপজেলার তিতারজান গ্রামের বাসিন্দা রাশিদা আক্তার তার ৪ বছর ৮ মাস ২১ দিন বয়সী নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিবেশী সাকিব মিয়ার বিরুদ্ধে গত ২১ এপ্রিল নেত্রকোনা শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর- ৪৪০/২০২৬।
ঘটনার দিন দুপুরে শিশুটি বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় অভিযুক্ত সাকিব মিয়া তাকে খেলা ও মজা খাওয়ানোর কথা বলে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে দাদু রাশিদা আক্তার অভিযুক্তের ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। ভেতর থেকে কান্নার শব্দ পেয়ে চিৎকার করলে সাকিব দরজা খুলে দেয়। পরে ঘরে ঢুকে শিশুটিকে খাটের ওপর অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। পরবর্তীতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্তের পরিবার ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে ৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয় ভুক্তভোগীর পরিবারকে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, “শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি আমি থানায় যোগদানের পর জানতে পেরেছি। মামলা হওয়ার তিন দিনের মধ্যেই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম দ্রুততার সঙ্গে চলমান রয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীর পরিবার নিরাপত্তা চেয়ে থানায় একটি জিডি করেছেন।”
নেত্রকোনা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.হাফিজুর রহমান বলেন, এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার জন্য নির্দেশ দিয়েছি। তারই কঠোর নির্দেশনায় থানায় ডায়েরিভুক্ত করে বিষয়টির তদন্তভার এসআই (নিরস্ত্র) মোস্তাক আহমেদকে দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
