সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে বুধবার ঈদ
প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ১৭:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ
পটিয়া প্রতিনিধি

বাংলাদেশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে যাচ্ছে মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা। প্রতিবছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন তারা।
দক্ষিণ চট্টগ্রামে এটি বহুদিনের পরিচিত বাস্তবতা হলেও একই দেশে ভিন্ন দিনে রোজা ও ঈদ উদযাপন নিয়ে প্রতিবছরই আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়।
মির্জাখীল দরবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামের হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঙ্গীরী (রহ.) হানাফি মাজহাবের আলোকে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা অনুসরণ করে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের ফতোয়া প্রদান করেন। সেই ধারাবাহিকতায় দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার ঘোষণাকে গুরুত্ব দিয়ে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন।
মির্জাখীল দরবার শরীফের দায়িত্বশীল মুহাম্মদ জালালুল হাই বলেন, “আমরা হানাফি মাজহাবের অনুসারী। আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার খবর দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে নিশ্চিত হয়ে এবং বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদের অবস্থান বিবেচনা করে বুধবার সে অনুযায়ী ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি আমাদের শতবর্ষী ধর্মীয় অনুশাসন। আমরা কারও বিরোধিতা করছি না।”
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও পটিয়া উপজেলার অন্তত ৫০টির বেশি গ্রামে লক্ষাধিক মানুষ বুধবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন।
উল্লেখযোগ্য গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে—সাতকানিয়ার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, ছোটহাতিয়া, আছারতলি; লোহাগাড়ার কলাউজান, বড়হাতিয়া, চুনতি; বাঁশখালীর ছনুয়া, চাম্বল, শেখেরখীল; পটিয়ার হাইদগাঁও, বাহুলী, ভেল্লাপাড়া, মোহাম্মদনগরসহ বিভিন্ন এলাকা।
এ ছাড়া ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং ভারত, মিয়ানমার, জার্মানি, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত অনুসারীরাও একই নিয়মে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করবেন।
এদিকে, বিশ্বাস ও বাস্তবতার এই ব্যতিক্রমী চিত্র দক্ষিণ চট্টগ্রামে দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে। মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীদের আগাম ঈদ পালন একদিকে শতবর্ষী ধর্মীয় অনুশাসন, অন্যদিকে জাতীয় ঐক্য ও চাঁদ দেখার নীতিমালা নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রমজান ও ঈদের সময় প্রতিবছরই এ অঞ্চলে এমন ব্যতিক্রমী চিত্র দেখা যায়।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা নির্ধারণে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তই রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুসরণ করা হয়। দেশের অধিকাংশ মুসলমান সেই ঘোষণার ভিত্তিতেই ঈদ উদযাপন করেন। তবে স্থানীয়ভাবে কিছু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে আসছে।
