বিনা নোটিশে উচ্ছেদের অভিযোগে নওগাঁয় মানববন্ধন, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ : ২৬ মে ২০২৬, ২১:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

  নওগাঁ প্রতিনিধি

অবৈধভাবে ভূমি দখল ও বিনা নোটিশে ষড়যন্ত্রমূলক উচ্ছেদের প্রতিবাদে নওগাঁয় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ভুক্তভোগী ভূমি মালিক ও ক্ষতিগ্রস্ত ভাড়াটিয়া দোকানদারদের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

জমির অংশীদার ভুক্তভোগী সেরেকুল ইসলামের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো. হারুন, উচ্ছেদ হওয়া স্থানীয় দোকানদার নুরুল ইসলাম, ফেরদৌস, বুলবুলি, এবং উচ্ছেদ হওয়া ভুক্তভোগী জমির অংশীদার পারুল ও পারভীন বেগম।

এ সময় মানববন্ধনে উচ্ছেদ হওয়া ভুক্তভোগী জমির অংশীদারের পরিবার ও দোকানদারসহ প্রায় শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে ভূমি মালিক ও দোকানদাররা অভিযোগ করে বলেন, নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে কয়েক যুগ ধরে বৈধভাবে পরিচালিত পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর স্থাপিত ব্যবসার মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। হঠাৎ করে কোনো নোটিশ ছাড়াই সোমবার বিকেলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ, আলোচনা কিংবা বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ না দিয়েই অবৈধভাবে জোরপূর্বক পৈত্রিক স্থাপনা উচ্ছেদ করায় ঈদের মাত্র দু’দিন আগে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। প্রায় ১৭ জন ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা হারিয়ে নিরবে চোখের পানি ফেলছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ভুক্তভোগী জমির অংশীদার সেরেকুল ইসলাম বলেন, “আর মাত্র দুইদিন পরই পবিত্র ঈদুল আজহা। এর মাঝেই কোনো নোটিশ বা নির্দেশনা ছাড়াই আমাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই জমির অন্য অংশীদার ইসলামী ব্যাংকের নিকট লোন নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। জমির অংশীদারদের মধ্যে এখনো বাটোয়ারা মামলা চলমান। অথচ আদালতের প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।”

ভুক্তভোগী দোকানদার নুরুল ইসলাম বলেন, “সোমবার (২৫ মে) বিকেলে জজ কোর্টের নাজির, পুলিশ, ব্যাংকের লোকজন এবং নিলাম ক্রয়কৃত ব্যক্তি সাজেদুল ইসলাম ভেকু মেশিন নিয়ে এসে দোকানপাট ভাঙচুর শুরু করেন। আমাদের কোনো উচ্ছেদ নোটিশ বা কাগজপত্র দেখানো হয়নি। এই জমির মালিকানা নিয়ে মামলা চলমান এবং আদালত থেকে স্থিতাবস্থা জারি রয়েছে। তারপরও কীভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো—আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের অধীনে থাকা বালুডাঙ্গা এলাকার এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা যায়।