মাদকের আড্ডা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি হাবিবের
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ১৬:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর অন্যতম উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেছেন, “কোনো মাস্তান-সন্ত্রাসীর কাছে জীবনে মাথা নত করিনি, জীবনে মাথা নত করব না। কোনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাস্তানদের ভোটের জন্য যেমন কাঠগড়ায় গিয়ে পায়ে ধরিনি, অনুনয়-বিনয় করিনি, তেমনি ভবিষ্যতেও করব না। ওই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা যারা আমার লোকজনকে আহত করেছে, হত্যা করেছে, আমার দলের লোকজনকে গুম করেছে, তাদের কাছেও আমরা হাতে-পায়ে ধরে যোগাযোগ করে বলিনি যে আমাদের ভোট দেন, আপনাদের সুরক্ষা দেব। এই কাজগুলো করিনি, ইনশাআল্লাহ করবও না। জনগণের সঙ্গে আছি, জনগণকে নিয়ে সুন্দর ঈশ্বরদী গড়ব। নির্বাচিত না-ও হতে পারি, তবে ঈশ্বরদীর সব উন্নয়নে তারেক রহমানের হাত ধরে আমি অংশগ্রহণ করব।”
রোববার (৩১ মে) সন্ধ্যায় পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসনের উদ্দেশে হাবিব বলেন, “কোনো সন্ত্রাসী, কোনো বহিষ্কৃত নেতার কথামতো আপনারা তাদের পাহারা দেবেন না। সরকারি অস্ত্র, সরকারি পুলিশ তাদের পাহারা দিতে পারে না। অনেকে এখন দেখছি দলে দলে দৌড়ে চলে যাচ্ছেন তাদের কাছে। ধানের শীষের নির্বাচন করেছেন, বিএনপির কমিটিতে আছেন, বিএনপির রাজনীতি করেন; সেগুলো বাদ দিয়ে সন্ত্রাসীদের কাছে যাচ্ছেন।”
তিনি বলেন, “যা যা করা লাগে আমি তাই তাই করব। প্রয়োজন পড়লে লোকোশেডের ওই মাদকের আড্ডা আমি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেব। সন্ত্রাসী মাস্তানি করবে, দলের ভোট করবে না, প্রতিদিন একে মারবে, ওকে মারবে—আর এটা হতে পারে না। এরপর আর একজন নিরীহ মানুষের ওপর যদি আঘাত আসে, কারও কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা হয়, তাহলে আমাদের নেতাকর্মীদের বলবেন। আমরা ওই সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দেব।”
তিনি আরও বলেন, “এই চাঁদাবাজ, দল থেকে বহিষ্কৃত, যারা স্বতন্ত্র নির্বাচন করেছে এবং স্বতন্ত্র না করেও যারা দলের প্রার্থীদের হারিয়েছে, এদেরকে আর কোনো দিন দলে জায়গা দেওয়া হবে না। এদেরকে যদি দলে জায়গা না দেওয়া হয়, আগামীতে বিএনপি ২৭০ থেকে ২৮০টি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।”
ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মকলেছুর রহমান বাবলুর সভাপতিত্বে এবং ঈশ্বরদী সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়নের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রকি, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি পাঞ্জু রহমান, ঈশ্বরদী সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি রেজাউল করিম শাহীন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুর রহমান পালশ, উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম তুহিন, পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আজমল হোসেন ডাবলু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম শামসুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব আজমল হোসেন সুজন, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুন্নবী স্বপন, সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম সন্টু সরদারসহ অন্যান্য নেতারা।
আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া, মোনাজাত ও খাবার বিতরণ করা হয়।
