লিচুতে চাঙ্গা ঈশ্বরদীর গ্রামীণ অর্থনীতি, লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ২১:৩২ | অনলাইন সংস্করণ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

ঈশ্বরদী অঞ্চলে লিচুর মৌসুম ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। লিচুকে ঘিরে এখন ঈশ্বরদীর গ্রামীণ অর্থনীতিতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ। গাছ থেকে লিচু নামানো, বাছাই, প্যাকেজিং, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ ও চালান কার্যক্রমে শ্রমিক, ট্রাকচালক, ভ্যানচালক, ঝুড়ির কারিগর, কুরিয়ার সার্ভিস, ব্যাংক, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ নানা খাতে অর্থনৈতিক গতি তৈরি হয়েছে। প্রতি বছর লিচুর মৌসুমকে কেন্দ্র করে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
ঈশ্বরদী কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী উপজেলায় সাধারণত ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে মোজাফফর (আটি), বোম্বাই ও চায়না-৩ জাতের লিচু চাষ করা হয়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ৩ লাখের বেশি গাছের প্রতিটিতে অসংখ্য লিচু ধরেছে।
চাষি ও বাগান মালিকদের দাবি, অতীতে কখনো ঈশ্বরদীতে লিচুর এত বেশি ফলন হয়নি। যে গাছে কখনো তিন হাজারের বেশি লিচুর ফলন হয়নি, এবার সে গাছে ৮ হাজারেরও বেশি লিচু ধরেছে। লিচুর ওজন সইতে না পেরে অনেক গাছের ডাল ভেঙে পড়ছে। উপজেলায় প্রায় ৭০০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হবে বলে আশা করছেন লিচু চাষি, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
সোমবার (১ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈশ্বরদীর লিচুবাগানগুলোতে বিরাজ করছে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য। সবচেয়ে বেশি বাগান রয়েছে উপজেলার জয়নগর, মানিকনগর, মিরকামারি, আওতাপাড়া, বড়ইচরা, জগন্নাথপুর, মহাদেবপুর ও বাঁশেরবাদা এলাকায়।
এখানকার পাকা লিচু পাড়া, বাছাই করা এবং প্যাকেটজাত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ও বিদেশে পাঠানোর কাজে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
উপজেলার আওতাপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আমিনুল হোসেন বলেন, “লিচু আমাদের টাকার ফল। এই কয়েক মাসের আয় দিয়েই অনেকের সারা বছরের সংসার চলে। একজন শ্রমিকও দিনে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।”
উপজেলার আওতাপাড়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সুজন ইসলাম বলেন, “গাছে গাছে শুধু লিচু আর লিচু। লিচুগাছের মালিকরা অত্যন্ত খুশি। উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নে লিচুগাছের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চাষিদের লিচু আবাদের বিষয়ে পরামর্শ প্রদানসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।”
এখানকার লিচু চাষিরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত গরমের কারণে কিছু লিচু ফেটে যাওয়া বা ঝরে পড়ার মতো প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা দেখা যায়। তবে সঠিক পরিচর্যা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি খাত।
স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষি বিভাগ চাষিদের বাগান ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করে থাকে।
সব মিলিয়ে লিচু এখন শুধু একটি মৌসুমি ফল নয়, বরং এখানকার গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণশক্তি। জুন মাসের এই লিচুকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক চাঞ্চল্য বদলে দিচ্ছে লক্ষাধিক পরিবারের জীবন-জীবিকা।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, উপজেলার ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
