মতলবে সম্পত্তি বিরোধের জেরে পিটুনিতে বৃদ্ধের মৃত্যু, অভিযুক্ত পলাতক

প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ২১:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

  চাঁদপুর প্রতিনিধি

নিহত বৃদ্ধ

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ পৌর এলাকায় সম্পত্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে বেধড়ক পিটুনিতে আহত আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী (৬৫) নামে এক ব্যক্তি দুই দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে একই বাড়ির বাসিন্দা অভিযুক্ত সুমন পাটওয়ারী (২৮) বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

সোমবার (১ জুন) দুপুরে পৌর এলাকার দক্ষিণ দীঘলদী গ্রামের আকরাম আলী পাটওয়ারী বাড়িতে গিয়ে নিহত ব্যক্তির স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

নিহত মান্নান পাটওয়ারী ওই বাড়ির মৃত সিডু পাটওয়ারীর ছেলে। তিনি একসময় ফার্নিচারের কাজ করতেন। বয়স হওয়ার কারণে বর্তমানে বাড়িতেই অবসর জীবনযাপন করছিলেন। অভিযুক্ত সুমন পাটওয়ারী একই বাড়ির আরব আলী পাটওয়ারীর ছেলে।

ওই বাড়ির বাসিন্দা তাজুল ইসলাম পাটওয়ারী বলেন, নিহত মান্নান তার চাচাতো ভাই। তার ছোট ভাই প্রতিবন্ধী হারুন পাটওয়ারী শনিবার (৩০ মে) বিকেলে বাড়ির সামনে নিজের জায়গায় একটি গাছ লাগান। পরে অভিযুক্ত সুমনের মা গাছটি উপড়ে ফেলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। খবর পেয়ে সুমন পাটওয়ারী দলবল নিয়ে বাড়িতে আসেন। প্রথমে তিনি হারুন পাটওয়ারী ও তার স্ত্রীকে মারধর করেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে মাগরিবের নামাজ শেষে বাড়িতে আসেন মান্নান পাটওয়ারী। তাকেও সুমন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন।

নিহত ব্যক্তির আত্মীয় নান্নু হাওলাদার বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যার পর তিনি ওই বাড়িতে যান। সুমন পাটওয়ারী আহতদের মারধর করলেও প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ এগিয়ে আসেনি। আহতদের প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে মান্নান পাটওয়ারীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার ছেলে জনি পাটওয়ারীসহ পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, সোমবার ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মান্নান পাটওয়ারী মারা যান।

স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন মৃধা বলেন, সুমন পাটওয়ারী মতলব পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার একটি কিশোর গ্যাং বাহিনী রয়েছে। ঘটনার সময় তিনি কাছেই ছিলেন। সুমন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন লোক নিয়ে বাড়িতে হামলা চালান। তার বিরুদ্ধে মুন্সিরহাট বাজারে দোকান দখল, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

মান্নান পাটওয়ারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বহু মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় করেন। তারা প্রশাসনের কাছে সুমন পাটওয়ারী ও তার কিশোর গ্যাং বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সুমন পাটওয়ারীর বাড়িতে গেলে দেখা যায়, বাড়ির গেটে তালা ঝুলছে। ভেতরে লোকজন থাকলেও কেউ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, মান্নান পাটওয়ারী ও সুমন পাটওয়ারীদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মান্নান পাটওয়ারী গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি সোমবার ভোরে মারা গেছেন। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।