৭ গ্রামের মানুষের ভরসা ভাঙা বাঁশের সেতু, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১৯:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

  শরীফ উদ্দীন, চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার নাটুদা ও নতিপোতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুলালনগর-নতিপোতা গ্রামের ভৈরব নদীর ওপর নির্মিত জরাজীর্ণ বাঁশের সেতুটির ওপর নির্ভর করেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ৭ টি গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই সেতু দিয়ে যাতায়াত করলেও বর্তমানে এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

চলতি বর্ষা মৌসুমে যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দুলালনগর, নতিপোতা, কালিয়াবকরি, প্রতাপপুর, গোপালপুর ও ভগীরথপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের জন্য ভৈরব নদী পারাপারের অন্যতম মাধ্যম এই বাঁশের সেতু। পার্শ্ববর্তী জগন্নাথপুর বাজার, ব্যাংক, মহাজনপুর কলেজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের জন্য এ সেতু ব্যবহার করতে হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুটি দিয়ে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করা গেলেও পণ্যবাহী বা অন্য কোনো যানবাহন পার করা সম্ভব হয় না। ফলে কৃষিপণ্য বা অসুস্থ রোগী নিয়ে তাদের হেমায়েতপুর-চারুলিয়া হয়ে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।

দুলালনগর গ্রামের রমজান আলী ওরফে টিটন (৪৫) বলেন, ‘বহু বছর ধরে আমরা এই বাঁশের সেতুর ওপর নির্ভর করে চলছি। একটি স্থায়ী সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। চুয়াডাঙ্গা, দামুড়হুদা কিংবা মেহেরপুরে যেতে হলে এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’

একই গ্রামের পূর্বপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা ফারুকুজ্জামান বকুল (৫৫) বলেন, ‘মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলতে কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যেতে অতিরিক্ত পথ ঘুরে যেতে হয়, এতে কৃষকদের ভোগান্তি ও খরচ দুটোই বাড়ছে। আমরা দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তারা এসে স্থান পরিদর্শন ও পরিমাপ করে গেলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

এদিকে, নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সেতুটি নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় ইজারাদার নাজমুল হোসেন বলেন, ‘সেতুটি তৈরিতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে এবং প্রতি বছর সংস্কারে আরও ৫০-৬০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অথচ হাজার হাজার মানুষ পারাপার হলেও ঠিকমতো টোল না দেয়ায় সেই খরচ ওঠে না। খরচের তুলনায় আয় না থাকায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এবারও সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, যেকোনো সময় স্রোতের তোড়ে ভেসে যেতে পারে।’

এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা প্রকৌশলী খালিদ হাসান বলেন, ‘সেতুটির বর্তমান অবস্থা আমরা পর্যবেক্ষণ করেছি এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জনগণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হচ্ছে; তবে ততদিন পর্যন্ত সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে সেতুটি ব্যবহার করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক গতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভৈরব নদীর ওপর দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।