রংপুরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সফলতা তুলে ধরতে বিশেষ অনুষ্ঠান
প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ১৬:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ
রংপুর ব্যুরো

সফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উদ্বুদ্ধ করা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা সম্পর্কে সমাজে ইতিবাচক ধারণার প্রসারের লক্ষ্যে বুধবার (০৩ জুন) সকাল ১১টায় গংগাচড়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সফলতা বিষয়ক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র (জিবিকে)-এর বাস্তবায়নে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগিতায় “পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি ফর এক্সট্রিমলি পুওর পিপল-ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (পিপিইপিপি-ইইউ)” প্রকল্পের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের প্রকল্প সমন্বয়কারী ডা. শামসুর রহমান, পিপিইপিপি-ইইউ প্রকল্প, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র, সভাপতিত্ব করেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গংগাচড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪নং গংগাচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাহাফুজার রহমান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রোগ্রাম অফিসার (লাইভলিহুড) কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান এবং টেকনিক্যাল অফিসার (নিউট্রিশন) সুরাইয়া আক্তার রাখি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান, ইউপি সদস্য মো. আজার আলী, মো. মোজাম্মেল হক, এমআইএস অফিসার কাজী মো. মাহবুব হাসান এবং টেকনিক্যাল অফিসার (কমিউনিটি মোবিলাইজেশন) মো. জিয়াউর রহমান।
অনুষ্ঠানে সফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনসংগ্রাম ও অর্জনের গল্প উপস্থাপন করা হয়। বিচারকমণ্ডলীর রায়ে প্রতিমা রানী প্রথম স্থান অর্জন করেন। বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী প্রতিমা রানী জীবনের নানা প্রতিকূলতা, নির্যাতন ও দারিদ্র্যকে জয় করে বর্তমানে ছাগল ও গবাদিপশু পালন, সবজি চাষসহ বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন। তাঁর দৃঢ়তা ও সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২৫ সালে ‘অদম্য নারী পুরস্কার’-এর আওতায় গংগাচড়া উপজেলা পর্যায়ে “নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে ফেলে জীবন যুদ্ধে জয়ী নারী” ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন।
প্রতিমা রানীর জীবনগাথা প্রমাণ করে, প্রতিবন্ধকতা কোনো বাধা নয়; যথাযথ সুযোগ, সহায়তা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে একজন মানুষ সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারেন।
এ প্রতিযোগিতায় আংগুরা বেগম দ্বিতীয় এবং মো. জাহেদুল ইসলাম তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। এছাড়াও আরও পাঁচজন অংশগ্রহণকারীকে সান্ত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়; তারা সমাজের সম্পদ। তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিকাশে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সফল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের গল্প সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
