জীবননগরে সন্তান হত্যার অভিযোগে বাবা আটক

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১৬:৫৭ | অনলাইন সংস্করণ

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কয়া গ্রামে সন্তান হত্যার অভিযোগে বিপ্লব (৩৫) নামে এক বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে আটক করা হয়। আটক বিপ্লব উপজেলার কয়া গ্রামের সাহাবুলের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে উপজেলার কয়া গ্রামের বিপ্লব পার্শ্ববর্তী শ্বশুরবাড়িতে যায়। এরপর তিনি শ্বশুরের কাছে একটি মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন ও ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন।

শ্বশুর যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শিখা খাতুনকে অমানুষিক নির্যাতন করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীর পেটে লাথি মারেন বিপ্লব। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এই ঘটনার পর বুধবার (৩ জুন) সকালে শিখা খাতুন একটি মৃত সন্তান প্রসব করেন। চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানা যায়, পেটে আঘাতজনিত কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিখা খাতুন মৃত সন্তান একটি কার্টনে নিয়ে জীবননগর থানায় হাজির হন।

এরপর রাত সাড়ে ১০টার দিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার কয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিপ্লবকে আটক করে। রাতেই শিখা খাতুন বাদী হয়ে স্বামী বিপ্লবের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

শিখা খাতুন বলেন, ‘ঈদের দুই দিন আগে স্বামী বিপ্লব আমার বাবার কাছে একটি মোটরসাইকেল, মোবাইল সেট ও ১ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। বাবা যৌতুক দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন শুরু করে। একপর্যায়ে আমার পেটে লাথি মারে। এতে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। এরপর বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।’

জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক বিপ্লবের বিরুদ্ধে সন্তান হত্যার অভিযোগ এনে স্ত্রী শিখা খাতুন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। তার বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।