খানসামায় টেন্ডার ছাড়াই স্কুলের গাছ কাটার অভিযোগ, গাছ জব্দ

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ২১:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

  দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সহজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। উঠেছে অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।

উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের সহজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত বুধবার সকালে কোনো পূর্বঘোষণা, টেন্ডার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই একটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রমিকরা গাছ কাটার কাজ করছেন। তাদের দাবি, প্রধান শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলামের নির্দেশেই গাছটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়রা প্রথমে বাধা দিলে শ্রমিকরা গাছ কাটা বন্ধ করে সরে যান। এলাকাবাসী সরে গেলে প্রধান শিক্ষক গাছটি কেটে ফেলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে এলাকাবাসী খানসামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর তালুকদারকে ফোনে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি তিনজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে গাছটি জব্দ করার নির্দেশ দেন। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছটি জব্দ করে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জিম্মায় রেখে আসেন।

এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, বিদ্যালয় বন্ধ থাকা ও ছুটির দিনের সুযোগ নিয়ে গাছটি কাটা হয়েছে। গাছ বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তারা। কেউ কেউ দাবি করেন, এর আগেও প্রধান শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম কয়েকটি গাছ কেটে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, গাছটি দীর্ঘদিন ধরে শুকনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় এনে এটি অপসারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ে চেয়ার-টেবিলের সংকট থাকায় কাঠ ব্যবহার করে আসবাব তৈরির পরিকল্পনাও ছিল বলে জানান তিনি।

স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী বলেন, গাছটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। সংশ্লিষ্টদের অবহিত না করেই গাছটি কাটা হয়েছে।

একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সিদ্ধান্ত আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া উচিত।”

এদিকে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলা শিক্ষা অফিসে তড়িঘড়ি করে একটি রেজুলেশন প্রস্তুত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত না করে পরে কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. মমিনুল ইসলাম প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

ঘটনাটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক বলছেন, আবার কেউ বলছেন—শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।