ভোলায় গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ২১:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলায় একটি ফ্ল্যাট বাসা থেকে মিতু আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে ভোলা পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার গোরস্থান মাদ্রাসা-সংলগ্ন এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
গৃহবধূ মিতু আক্তার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বশির আহমেদের মেয়ে।
তবে পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনার পর থেকেই গৃহবধূর স্বামী সোহাগসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।
মিতুর পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে সোহাগ তার শাশুড়িকে ফোন করে জানায়, মিতু গুরুতর অসুস্থ, তাকে দ্রুত আসতে হবে। ফোন পেয়ে মিতুর বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজন তড়িঘড়ি করে শহরের উকিলপাড়া এলাকার ওই বাসায় এসে বিছানায় মিতুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ততক্ষণে স্বামী সোহাগ ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসা থেকে পালিয়ে যায়।
মিতুর পরিবারের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর আগে দৌলতখান উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে সোহাগের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। তাদের দুই বছরের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে মিতুর ওপর প্রায়ই পাশবিক নির্যাতন চালাত তার স্বামী সোহাগ। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে মিতুর পরিবার বিভিন্ন সময় নগদ অর্থ, টিভি, ফ্রিজসহ ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্র দিয়ে ঘর সাজিয়ে দিলেও সোহাগের নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
মিতুর ওপর চলমান নির্যাতন নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি থানা-পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। পুলিশ একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও মিতুর ওপর স্বামীর নির্যাতন থামেনি।
মিতুর পরিবার আরও দাবি করেছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্বামী সোহাগ ও তার পরিবারের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভোলা সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়াউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
