পদ্মায় পড়ল যাত্রীবাহী বাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ১৬:৪৫ | অনলাইন সংস্করণ

  রাজবাড়ী প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বাস ডুবির ঘটনায় ২৬ জনের প্রাণহানির রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও পদ্মা নদীতে একটি যাত্রীবাহী বাস ডুবে গেছে। তবে এবার ফেরিতে ওঠার আগেই বাসটির সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে এ ঘটনায় ৭ নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে এ ঘটনা ঘটে।

কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা এসবি সুপার ডিলাক্স পরিবহনটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের করবি-অক্সফ্যাম ফেরির র‌্যাম্প ভেঙে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় বাসটি নদী থেকে উদ্ধার করে।

উদ্ধার অভিযানে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, ডুবুরি দল, নৌপুলিশ এবং স্থানীয়রা অংশ নেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাসসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

বাসের যাত্রী হিরোক আহমেদ জানান, বাসটি সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে এবং সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছায়। ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।

আরেক যাত্রী মাইসা রহমান বলেন, “আমরা ফেরিতে উঠে পড়েছিলাম। বাসটিতে তখন শুধু চালক ও হেলপার ছিলেন। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।”

ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরে ডুবুরি দল ও উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় বাসটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সালাহউদ্দিন বলেন, “ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।”

জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, “দ্রুত উদ্ধার তৎপরতার মাধ্যমে বাসটি নদী থেকে তোলা হয়েছে। যাত্রীদের মালামালও উদ্ধার করে তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাসে কোনো যাত্রী না থাকায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।”

উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল একই নৌরুটে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস পদ্মা নদীতে ডুবে গেলে নারী ও শিশুসহ ২৬ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর আবারও বাস ডুবির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।