দুদকের মামলার আসামি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হলেন বিভাগ সেরা

প্রকাশ : ০৬ জুন ২০২৬, ২০:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

  দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ এম শাহাজান সিদ্দিক ২০২৬ সালের রংপুর বিভাগের শ্রেষ্ঠ ডিপিইও (জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার) নির্বাচিত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুরসহ রংপুর বিভাগের সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঠাকুরগাঁও জেলায় কর্মরত থাকাকালীন ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ৬ জন শিক্ষককে অবৈধভাবে নিয়োগ এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ৪০ লাখাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ অভিযোগে দুদক ২৪ জুন ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় তাকে ১ নম্বর আসামি করে ঠাকুরগাঁও জজ আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ৫৭ নং আইনের ৩৯(২) ধারা এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ম্যাজিস্ট্রেসি নীতিশাখার স্মারক অনুযায়ী দুদকের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিকে সাময়িক বরখাস্ত করার বিধান থাকলেও অজ্ঞাত কারণে কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়নি।

এছাড়া, অনিয়মের অভিযোগে অতীতে তাকে বান্দরবানে বদলি এবং অধিদপ্তরে ওএসডি (সংযুক্তি) করা হলেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে রংপুর বিভাগেই পোস্টিং নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাকরিজীবনের প্রায় পুরো সময় রংপুর বিভাগে থাকায় বিভাগজুড়ে তার একটি সিন্ডিকেট রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তার বিরুদ্ধে দিনাজপুরে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য, বিভাগীয় মামলা বাণিজ্য, পিআরএল, পেনশন ও বিভিন্ন ধরনের ছুটির ফাইলে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। রংপুর বিভাগীয় শহরে ১০ তলা বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এত কিছুর পরও তিনিই বিভাগ সেরা নির্বাচিত হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, সেরা নির্বাচনের ক্ষেত্রে পূর্বের রেকর্ড যাচাই করা হয় কি না, নাকি এক্ষেত্রেও তিনি প্রভাব খাটিয়ে সেরা হয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।