ভ্যাপসা গরমে সিরাজগঞ্জে বাড়ছে তালের আঁশ ও আঁখের রসের চাহিদা
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ২২:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
এস.এম তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। গরমের তৃষ্ণা মেটাতে তালের আঁশ, আঁখের রসসহ বিভিন্ন ঠান্ডা জাতীয় খাদ্যসামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে তালের আঁশ ও আঁখের রস খেতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে ঠান্ডা, কাশি ও জ্বরসহ নানা রোগের প্রাদুর্ভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে সিরাজগঞ্জে প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম বিরাজ করছে। রোববার সকাল থেকে এর তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পায়। গরমের কারণে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া শহরাঞ্চলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
সকাল থেকে পড়ন্ত বিকেল পর্যন্ত জেলা, উপজেলা শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ভ্যাপসা গরমের তীব্রতা বেশি থাকছে। এতে শিশু, বৃদ্ধ ও বয়স্ক মানুষ বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। রাতেও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
শহর, হাটবাজার, যমুনা নদীর পাড়, সড়ক ও মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে তালের আঁশ, আঁখের রস ও লেবুর শরবতের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া ট্রেন ও বাসে আইসক্রিমসহ বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব পণ্যের দামও বেড়েছে।
বর্তমানে একটি তালের আঁশ ৮ থেকে ১০ টাকা, এক গ্লাস আঁখের রস ১০ থেকে ২০ টাকা, এক গ্লাস লেবুর শরবত ১০ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া একটি ডাব ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দুপুরের দিকে ভ্যাপসা গরমে শহর-বন্দরে রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ তাল ও আঁখের রসের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পড়ন্ত বিকেলে যমুনা নদীর পাড় ও চায়না বাঁধ এলাকায়ও অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটছে। অনেকেই মধ্যরাত পর্যন্ত এসব স্থানে অবস্থান করছেন।
শহরের বাজার স্টেশন এলাকায় তালের আঁশ বিক্রেতা হাসান এবং চায়না বাঁধ এলাকায় আঁখের রস বিক্রেতা রাজ্জাক জানান, কয়েকদিনের প্রচণ্ড গরমে তালের আঁশ ও আঁখের রসের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জেলার তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর ছাড়াও নাটোর ও পাবনাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে তাল ও আঁখ সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা বিক্রির জন্য আনছেন। চাহিদা বেশি থাকায় দামও কিছুটা বেড়েছে বলে তারা জানান।
এদিকে প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে ঠান্ডা, কাশি ও জ্বরসহ নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক শিশু ও বিভিন্ন বয়সী মানুষ সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন বলেন, অব্যাহত ভ্যাপসা গরমের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গরম থেকে রক্ষা পেতে ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করতে হবে এবং প্রয়োজন ছাড়া রোদে চলাফেরা এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি ডাবের পানি, লেবুর শরবত ও ওরস্যালাইন পান করার পরামর্শ দেন তিনি।
