বাকলিয়ার শিশু ধর্ষণ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ, শুনানি মঙ্গলবার
প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১৭:০৮ | অনলাইন সংস্করণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো

নগরের বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (৮ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা এ আদেশ দেন।
শুনানির সময় মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, বাকলিয়া থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়।
অভিযোগপত্র গ্রহণের পর আগামী মঙ্গলবার (৯ জুন) অভিযোগ গঠনের জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৪ জুন আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ পরীক্ষার ফল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
মামলার আসামি মনির হোসেন (৩০) মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি বাকলিয়া এলাকার মিয়াখাননগরে বসবাস করছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা এলাকার বালুর মাঠসংলগ্ন একটি গুদামকক্ষে চার বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তানভীর আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, আলামত সংগ্রহ, সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশু ও অভিযুক্তের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।
ঘটনার পরদিন মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দিও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২২ ধারায় রেকর্ড করা হয়।
পুলিশ জানায়, তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ, চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট জবানবন্দি পর্যালোচনার পর অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। মামলায় ১৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
এদিকে আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার প্রস্তুতিকালে একদল ব্যক্তি বাধা প্রদান করে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিক আহত হন।
পাশাপাশি পুলিশবাহী কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। পরে আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় মোবারক হোসেন বাদী হয়ে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
