এতিম শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ, কাঠগড়ায় কলেজ শিক্ষিকা

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ২১:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

  চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ১০ বছর বয়সী এক এতিম শিশুকে দুই বছর ধরে গৃহকর্মীর মতো কাজে লাগানো ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক কলেজ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্বজন ও স্থানীয়রা।

অভিযুক্ত লাবনী আক্তার জীবননগর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জীবননগর সরকারি মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার জাকাউল্লাহর মেয়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রায় দুই বছর আগে এতিম শিশু মরিয়মকে (১০) নিজের বাসায় নিয়ে যান লাবনী আক্তার। তবে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শুরুতে কিছুদিন স্কুলে পাঠানো হলেও পরে তার পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর তাকে দিয়ে ঘরের বিভিন্ন কাজ করানো হতো এবং সামান্য ভুল হলেই শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো।

জানা গেছে, জন্মের ছয় বছর পর মরিয়মের মা মারা যান। পরে তার বাবা অন্যত্র চলে গেলে সে নানা-নানির কাছে বড় হতে থাকে। দুই বছর আগে নানার মৃত্যুর পর লাবনী আক্তার তাকে নিজের বাসায় নিয়ে যান।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, মরিয়মকে দিয়ে ঘর পরিষ্কার, রান্নাবান্না, কাপড় ধোয়া এবং সংসারের প্রায় সব ধরনের কাজ করানো হতো। অভিযোগ রয়েছে, কাজে সামান্য ত্রুটি হলেই তাকে লাঠি, রড ও গরম খুন্তি দিয়ে মারধর করা হতো। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ও আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ জুন গৃহস্থালির কাজকে কেন্দ্র করে মরিয়মকে আবারও মারধর করা হয়। একপর্যায়ে পেটে লাথি মারলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে জ্ঞান ফিরলে সুযোগ বুঝে পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। খবর পেয়ে তার নানি রশিদা খাতুন সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

মরিয়ম অভিযোগ করে বলে, তাকে পড়াশোনা করানোর কথা বলে বাসায় নেওয়া হলেও পরে সার্বক্ষণিক গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত রাখা হয়। কোনো কাজে ভুল হলে তাকে মারধর করা হতো এবং গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাকা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করে সে। তার ভাষ্য, কান্নাকাটি করলে চিৎকারের শব্দ বাইরে না যাওয়ার জন্য মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হতো।

শিশুটির নানি রশিদা খাতুন বলেন, “এতিম একটি শিশুর সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমার নাতনিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন লাবনী আক্তার। তিনি বলেন, “মরিয়মকে আমি নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করেছি। পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ায় তাকে শাসন করা হয়েছে। তাকে কখনো গৃহকর্মী হিসেবে রাখা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক।”

এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, “ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযোগের সত্যতা মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।