সিরাজগঞ্জে গ্রীষ্মকালীন পটল চাষে স্বচ্ছলতা ফিরছে কৃষকের

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ২১:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

  এস.এম. তফিজ উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জে এবার গ্রীষ্মকালীন পটল ও বিভিন্ন সবজি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। পটলের বাজার ভালো থাকায় কৃষকেরা এখন খুশি। ইতোমধ্যেই এ চাষে অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় পটলসহ বিভিন্ন সবজির চাষাবাদও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রীষ্মকালীন পটলসহ অন্যান্য সবজি চাষে ৮ হাজার ৫শ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে চাষ করেছেন কৃষকেরা। সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। এছাড়া যমুনা নদীর চরাঞ্চলেও এ চাষাবাদ করা হয়েছে।

এ গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে পটল, বেগুন, ঢেঁড়স, পেঁপে, কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, পালংশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, ডাঁটা, সিম ও মুলা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও প্রায় ৩ মাস আগে এসব দেশি সবজি চাষ করেছেন কৃষকেরা। তবে হাইব্রিড সবজি সারা বছরই চাষ হয়ে থাকে।

পটলসহ এসব সবজির হাট-বাজারে দামও ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি। স্থানীয় কৃষকেরা বলছেন, খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় গ্রীষ্মকালীন সবজি চাষাবাদে কৃষকেরা আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তবে যমুনা নদীর তীরবর্তী ৫টি উপজেলার চরাঞ্চলে পটল ও বিভিন্ন সবজি বেশি চাষ হয়েছে। এছাড়া বাড়ির আঙিনা ও পুকুরপাড়েও এ চাষ করা হয়ে থাকে। এ চাষে গৃহবধূরাই বেশি রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন।

এদিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী নতুনপাড়া গ্রামের প্রান্তিক কৃষক হাসান (৪৫) প্রায় ২৪ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন পটল চাষ করেছেন। এ চাষাবাদে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা। প্রায় দেড় মাস ধরে এ জমি থেকে পটল উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং প্রতি কেজি পটল খুচরা বাজারে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করছেন। ইতোমধ্যেই তিনি প্রায় ২৫ হাজার টাকার পটল বিক্রি করেছেন এবং আরও ১ থেকে ২ মাস পটল উৎপাদন হবে। খরচের তুলনায় এ জমি থেকে কয়েক গুণ লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন।

এ চাষাবাদের লাভ দেখে বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা পটল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে অনেক কৃষকের স্বচ্ছলতা ফিরছে।

এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক এ. কে. এম. মঞ্জুরে মওলা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, আগাম গ্রীষ্মকালীন পটলসহ বিভিন্ন সবজি চাষে কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। বিশেষ করে কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে থেকেও এ পরামর্শ দিয়েছেন। এবার এ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বাজার ভালো থাকায় কৃষকেরা খুশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।