চলতি মাসেই রূপপুরে শুরু হতে পারে চেইন রিঅ্যাকশন, চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ১৫:২০ | অনলাইন সংস্করণ

  ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে চুল্লির নিরাপত্তা, সঞ্চালন ব্যবস্থা এবং জাতীয় গ্রিডের প্রস্তুতির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি মাসেই নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ বা ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ শুরু হতে পারে।

ইতোমধ্যে কেন্দ্রটিতে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর আগে বিজ্ঞানীরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন কারিগরি দিক পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন।

একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে তা নিরাপদে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যমান সঞ্চালন লাইনগুলোর প্রস্তুতি যাচাই করা হচ্ছে।

সোমবার (৮ জুন) বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন সঞ্চালন ও বিতরণ সংস্থা এবং কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সভায় তিনি পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশের আগে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় দ্রুত প্রস্তুতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর এ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা চালুর আগে পিজিসিবিকে প্রয়োজনীয় স্টাডি করে একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরি করতে হবে। পরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞ বিদেশি পরামর্শকদের মাধ্যমে তা পর্যালোচনা করা হবে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় আধুনিকায়ন করা হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটে গত ২৮ এপ্রিল পারমাণবিক জ্বালানি স্থাপন শুরু হয়। পরে ১২ মে কেন্দ্রের চুল্লিতে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়। এরপর থেকেই চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার আগের সব ধরনের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে।

বুধবার দুপুরে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাছান জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন। চেইন রিঅ্যাকশন শুরুর আগে আগামী দুই সপ্তাহ ধরে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এরপর ধাপে ধাপে পারমাণবিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ১০ থেকে ২০ মেগাওয়াট হারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। পরবর্তীতে উৎপাদন বাড়িয়ে আগস্টে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট এবং ডিসেম্বর নাগাদ পূর্ণ সক্ষমতায় অর্থাৎ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল)-এর উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাকশী সড়ক ও জনপথ বিভাগের পরিদর্শন বাংলো চত্বরে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রায় তিন শতাধিক স্থানীয় কৃষক, মৎস্যজীবী, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও পুরোহিত অংশ নেন।

সেখানে এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি এটি একটি নির্ভরযোগ্য ও কার্বনমুক্ত বিদ্যুতের উৎস হবে।

তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্মিত এ কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় তাপ বা কার্বন নিঃসরণ হবে না এবং কৃষি, মৎস্য কিংবা পরিবেশের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। কুলিং টাওয়ার থেকে নির্গত জলীয় বাষ্পও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।