হাজীগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ২২:০২ | অনলাইন সংস্করণ

  হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বাজারের হলুদপট্টি এলাকার মাতৃমায়া আবাসিক হোটেল থেকে এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ হোটেলের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে চাঁদপুর থেকে পিবিআই এসে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করে।

নিহত ব্যক্তি মো. ইলিয়াস কাজী (৬৫)। তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর গুপ্টি ইউনিয়নের কাজী বাড়ির আদম আলী কাজীর ছেলে।

নিহতের ছেলে মাহদী হাসান কাজী জানান, তার বাবা গত ৮ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ১২ জুন ফরিদগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন, যার নম্বর ৬১৮। পরবর্তীতে শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক) থেকে জানতে পারেন, হাজীগঞ্জে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তারা থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন।

মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটন জানান, ১২ জুন (শুক্রবার) সন্ধ্যায় মো. ইলিয়াস কাজী তাদের হোটেলে ওঠেন। পরদিন ১৩ জুন (শনিবার) দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কক্ষের দরজা বন্ধ থাকায় এবং কয়েকবার নক করেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে থানায় খবর দেওয়া হয়। পরে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে হোটেলটির ম্যানেজার রায়হান বলেন, বিকেল পর্যন্ত কয়েকবার দরজায় নক করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি হোটেল মালিক ফারুক হোসেন লিটনকে অবহিত করেন। পরে তিনি থানায় ফোন করেন।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল মান্নান জানান, হোটেল থেকে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মুকুর চাকমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

তিনি সংবাদকর্মীদের জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কীটনাশক পান করে ইলিয়াস কাজীর মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন বিভিন্ন অনিয়মের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।