হাজীগঞ্জে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর, হোটেল সিলগালা ও আটক ২

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০২৬, ১৯:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

  হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে মারধর ও আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবাসিক হোটেলে অনৈতিক কার্যক্রম সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৬ জুন) হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

হাজীগঞ্জ বাজারস্থ হলুদপট্টি মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের মালিক মো. ফারুক হোসেন লিটনের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজন যুবক এ হামলায় অংশ নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কয়েকজন যুবক প্রেসক্লাব থেকে বের করে এনে সাংবাদিককে মারধর করেন।

আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ নিউজ ও বাংলাদেশ খবর পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক ‘ত্রিনদী’ পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে কর্মরত আছেন।

খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান এর নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স হাজীগঞ্জ বাজারস্থ হলুদপট্টির মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলের নিচতলায় অবস্থিত হাজী আনোয়ার মঞ্জিল থেকে সাংবাদিককে উদ্ধার করা হয়। এ সময় অভিযুক্ত ফারুক হোসেন লিটন ও তার ছেলে তাওহীদ হোসেনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

জানা যায়, গত শনিবার ওই হোটেল থেকে নিখোঁজ এক বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ওই সময় বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবাসিক হোটেলটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে সেই নির্দেশ অমান্য করে হোটেলটি খোলা রেখে অনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই হোটেল থেকে অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবক ও এক যুবতীকে আটক করে।

এ ঘটনায় বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ একাধিক মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ ওই অনৈতিক কার্যক্রম সংক্রান্ত সংবাদ অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হন ফারুক হোসেন লিটন। পরে তিনি অজ্ঞাতনামা ভাড়াটে ১০/১২ জনকে নিয়ে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে যান এবং সেখান থেকে সাংবাদিককে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনায় সাংবাদিককে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন মহল, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহল নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন আল আজাদ প্রথমে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় তিনি আবাসিক হোটেলের মালিক ফারুক হোসেন লিটন, তার ছেলে তাওহীদ হোসেন ও তার বাবা আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, “অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করা হচ্ছে।”

উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে আবাসিক হোটেল পরিচালনার অভিযোগে মঙ্গলবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনে আল জায়েদ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাতৃমায়া আবাসিক হোটেলটি সিলগালা করে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিনা জাহান, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল মান্নান, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীমসহ প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্য ও সংবাদকর্মীরা।