মাগুরায় ছাত্রীকে হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষকের শাস্তি দাবি
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ১৬:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হাট দারিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক মহসিন বিশ্বাসের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার বিকেলে ওই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির ঘটনাটি ঘটে। এর প্রতিবাদে আজ সকাল ১১টায় হাট দারিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মূল গেট থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি স্থানীয় বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় স্কুল চত্বরে এসে প্রতিবাদ সভায় মিলিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলে বিদ্যালয়ের সব শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
প্রতিবাদ সভায় ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলে, “আমরা শিক্ষকের কাছে সন্তানের মতো। শিক্ষকরা যেখানে আমাদের অভিভাবক, সেখানে তিনি যদি আমাদের সঙ্গে এমন অশালীন আচরণ ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেন, তবে আমরা কোথায় নিরাপদ? আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং উক্ত স্যারের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম প্রদীপ। তিনি বলেন, “এই বিতর্কিত শিক্ষক বিদ্যালয়ে থাকলে আমাদের স্কুলের মান-সম্মান ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। তিনি বিগত দিনগুলোতেও এ ধরনের আপত্তিকর আচরণ বহুবার করেছেন। অতীতে তাকে ক্ষমা করা হলেও এবার আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা অবিলম্বে তার অপসারণ, স্কুল থেকে স্থায়ী অব্যাহতি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
বিক্ষোভ মিছিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক দারিয়াপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউল আযম, বিএনপি নেতা ও দারিয়াপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য শাহাজাহান শেখ এবং অভিভাবক সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।
এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের দাবি, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের সুরক্ষায় প্রশাসন দ্রুত এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিদ্যালয়টিকে কলঙ্কমুক্ত করবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাট দারিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী ইমাম হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীর যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে লিখিত জবাব সন্তোষজনক না হলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
