মাদক নির্মূল কমিটির বিরুদ্ধে আইন হাতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০২৬, ১৯:২২ | অনলাইন সংস্করণ

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

মাদকের কবল থেকে এলাকা মুক্ত করতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে গড়ে ওঠা একটি সামাজিক প্রতিরোধ আন্দোলন এখন তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে। মাদকবিরোধী আন্দোলনের আড়ালে ‘জনতার আদালত’ বসিয়ে এক যুবককে ‘মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের’ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে।

একদিকে এলাকাবাসী মাদকের উপদ্রব কমায় স্বস্তি প্রকাশ করলেও, অন্যদিকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই বর্বর প্রবণতা ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহলকে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের কোষা ভবানীপুর, থমুনিয়া ও সাহাপাড়াসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ছিল। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে মাদক কিনতে আসত।

স্থানীয়দের দাবি, ১০-১২ জন চিহ্নিত ব্যবসায়ী পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে সম্প্রতি শাহিনুর কবিরের নেতৃত্বে ১৬০ সদস্যের একটি ‘মাদক নির্মূল কমিটি’ গঠন করা হয়।

কমিটির প্রধান শাহিনুর কবির বলেন, “সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা এলাকাটি মাদকমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিল।”

তবে মাদকবিরোধী এই উদ্যোগ শুরুতে প্রশংসিত হলেও, ‘জনতার আদালত’ বসিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় এখন আইনি ও মানবিক প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মাদক ব্যবসায়ী সন্দেহে উত্তেজিত জনতা প্রথমে থমুনিয়া সাহাপাড়া গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. সবুজের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এরপর গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সবুজকে তার দোকান থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে প্রকাশ্যে তার হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করা হয়।

নির্যাতনের একপর্যায়ে সবুজকে দিয়ে ‘আর কোনোদিন মাদক ব্যবসা করবে না’ মর্মে জোরপূর্বক শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। এই ঘটনার পর আতঙ্কে আরও কয়েকজন কথিত মাদক ব্যবসায়ী এই ‘জনতার আদালতে’ এসে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

নির্যাতনের শিকার সবুজের পরিবারের এক সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা ভালো কথা, কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এভাবে বর্বর কায়দায় নির্যাতন করার অধিকার কারও নেই। অপরাধী হলে পুলিশ ধরবে, সাজা দেবে। এরা আইন ভাঙার কে?”

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই ঘটনাকে কোনোভাবেই সমর্থন করছে না স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ।

জানতে চাইলে পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া স্পষ্ট অপরাধ। মাদক নির্মূলে সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ প্রয়োজন, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব একমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। কাউকেই আইন হাতে তুলে নিতে দেওয়া হবে না।”