সাবেক প্রতিমন্ত্রী হারুন-আল-রশীদের মৃত্যু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের ছায়া

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৬, ১৭:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গণমানুষের নেতা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে পাঁচবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। সর্বশেষ তিনি কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যা, জামাতা, পুত্রবধূ, দুই ভাইসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।

শুক্রবার সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ আসর নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার বাদ জোহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদের মৃত্যুতে তিনদিনের শোক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান চৌধুরী কানন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার থেকে আগামী তিনদিন জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থকসহ সর্বসাধারণ কালো ব্যাজ ধারণ, দলীয় কার্যালয় ও মরহুমের বাসভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, দিনব্যাপী মরহুমের বাসভবনে কোরআন খতম এবং বাদ জুমা জেলা ও উপজেলার সকল মসজিদে দোয়া ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।

অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদ ১৯৩৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নাটাই দক্ষিণ ইউনিয়নের নরসিংসার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মৌলভীপাড়ার নিজ বাসভবনে বসবাস করতেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম আব্দুল বারিক মোক্তার।

অত্যন্ত মেধা, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতা দিয়ে অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদ আইন পেশা থেকে রাজনীতিতে এসে জাতীয়ভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বজনগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি ও গণমানুষের নেতা।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদ ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে তিনি পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হন।

সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি জাতীয় সংসদের হুইপ এবং পরে চিফ হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মন্ত্রিসভায় তিনি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে তিনি নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

অ্যাডভোকেট হারুন-আল-রশীদ বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং জাতীয় সংসদের হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর মৃত্যুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব। পৃথক পৃথক শোকবার্তায় নেতৃবৃন্দ মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।