নেত্রকোণার দুর্গাপুরে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব, বিধ্বস্ত ১০টি বসতঘর

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১৭:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

  দুর্গাপুর (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের কানাইল ও গাঁওকান্দিয়া গ্রামে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে অন্তত ১০টি বসতভিটা বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য পরিবার।

শনিবার (২১ জুন) দুপুর প্রায় ১২টার দিকে মাত্র তিন মিনিট স্থায়ী এ ঘূর্ণিঝড় ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে ঘরবাড়ি, গোয়ালঘর ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন জালাল উদ্দিন, বিধবা মাজেদা খাতুন, বিল্লাল হোসেন, কুদ্দুস আলী, ইব্রাহীম মিয়া, বিধবা পারভীন আক্তার, হুমায়ুন মিয়া, জিন্না আলি, তোতা মিয়া ও শাহেদ মিস্ত্রি। তাদের অনেকের বসতঘর ও গোয়ালঘর আংশিক এবং সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঘটনাস্থল সরেজমিনে গিয়ে এমন ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে কয়েকটি বসতঘরের টিনের চালা উড়ে যায় এবং অনেক গোয়ালঘর ভেঙে পড়ে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ঝড়ের সময় আতঙ্কিত হয়ে মানুষ ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। তবে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে আকস্মিক এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এমন দুর্যোগে অনেক পরিবার নতুন করে মানবিক সংকটে পড়েছে।

গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, “ঘূর্ণিঝড়টি খুব অল্প সময় স্থায়ী হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। ১০টি পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকের আংশিক ক্ষতিও হয়েছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করছি এবং তাদের দ্রুত সহায়তা প্রদানের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদাত আহমেদ বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি আমি জেনেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিধি মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”